নির্বাচন করবেন রওশন, পরিস্থিতি বুঝে জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা পৃথকভাবে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্মদিন পালন করেছে। অনুষ্ঠানে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাপার অংশগ্রহণের ব্যাপারে রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের দুই ধরনের মন্তব্য করেছেন। রওশন এরশাদ বলেছেন, নির্বাচন হতে এখনো অনেক দেরি আছে। সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচন হবে এবং সে নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি।

অন্যদিকে জিএম কাদের বলেছেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনকে সরকার দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। এমন অবস্থায় বা এমন কাঠামোতে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি।

কারণ সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা এমনই রাখবে নাকি কিছু পরির্বতন করবে তা আমরা এখনই জানি না। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্বাচনের আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

এরশাদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে কথা বলেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। পৃথক অনুষ্ঠান কি দ্বন্দ্ব প্রমাণ করে? দলীয়ভাবে নেতার জন্মদিন স্মরণ করে কর্মসূচি পালন করেছে, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমিও দোয়ার আয়োজন করেছি। এতে কোনোভাবেই দ্বন্দ্ব বা বিভেদ প্রমাণ করে না।’

সকালে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে কেক কেটে ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে জন্মদিন পালন করেন রওশন এরশাদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মৃতি নিয়ে এগিয়ে যাবে তার দল। তার রেখে যাওয়ায় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলবে পার্টি। যারা তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলবেন না, তাদের চলার সুগম হবে না।’

অনুষ্ঠানে এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ এমপি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কাছে আপনারাই পরিবার। সে কারণে দলের নেতাকর্মীরা পরিবারের সদস্য বলেই আপনারা আমার আপনজন। আপনাদের সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যাব আমি।’

জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার মুখপাত্র কাজী মামুনূর রশীদ, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সরোয়ার মিলন, সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে বেলা ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জিএম কাদের। পরে দুপুরে চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাপা এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে কেক কাটা হয়। এ সময় মহাসচিবসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হক মনি জিএম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

এ সময় জিএম কাদের বলেন, ‘দেশ চালানো হচ্ছে গোঁজামিল দিয়ে। অর্থের অভাবে দেশের স্বাভাবিক আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবাসীদের আয় এবং রপ্তানির চেয়ে দেশের ব্যয় অনেক বেশি। রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না, দাম বেড়ে গেছে। ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পার্টির সুপারিশমালা আছে। এসব সুপারিশ গ্রহণ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হলেই দেওয়া হবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

এসব অনুষ্ঠানে জাপার মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, এসএম আবদুল মান্নান, সুনীল শুভ রায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুর ১২টায় জাপার কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির নেতৃত্বে রাজধানীর আমির টাওয়ারে দোয়া মাহফিল ও কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করে শ্যামপুর-কদমতলী থানা জাতীয় পার্টি।