সফটওয়্যারে জানা যাবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্যের আধুনিকায়নে জোর দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি বছরই নানান ক্ষয়ক্ষতি হয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোয়। তবে দুর্যোগে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারও কাছেই। তাই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রকাশে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিবিএস। এটি চালু হলে দেশের যেকোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি জানা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার ‘আর্থসামাজিক, জনমিতিক ও পরিবেশগত তথ্যের সাথে ভূ-স্থানিক (জিআইএস) তথ্য সমন্বিত করে ওয়েব অ্যাপলিকেশন’ চূড়ান্তকরণ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। ‘পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ পরিসংখ্যান শক্তিশালীকরণ (ইসিডিএস) প্রকল্প’ আওতায় সিইজিআইএসের সহায়তায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় বিবিএস প্রথমবারের মতো সিজিআইএস কারিগরি সহযোগিতায় ‘আর্থসামাজিক, জনমিতিক ও পরিবেশগত পরিসংখ্যানিক’ তথ্যের সঙ্গে ভূ-স্থানিক (জিআইএস) তথ্য সমন্বিত করে মোবাইল রেসপনসিভ ওয়েব অ্যাপলিকেশন প্রস্তুত করেছে। এ ওয়েব অ্যাপলিকেশন ডেটা রিপোজিটরি হিসেবে আইনগতভাবে বিবিএস এসডিজির পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক ইন্ডিকেটরে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

এর মাধ্যমে সব কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল (ই-সিস্টেম) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করছে বিবিএস। বাংলাদেশে এককভাবে এ ধরনের কোনো জিআইএস ডেটাবেইস নেই। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হলে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিবিএস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন জানান, বিবিএস নতুন নতুন বিষয়ে পরিসংখ্যান প্রণয়ন করছে। স্টেকহোল্ডারদের মতামতসহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিসংখ্যান প্রণয়ন করার চেষ্টা করছে। পরিবেশগত ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করেই ইসিডিএস প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

শাহনাজ আরেফিন বলেন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপি) প্রণয়ন করে। এই পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য দেশের সামর্থ্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি তারই অংশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপনে প্রতিবেশ ও পরিবেশসম্মত বিধিব্যবস্থা প্রতিপালনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এসব নজরদারিতে জিআইএসভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হাসান। ইসিডিএস প্রকল্পের ওয়েব অ্যাপলিকেশন সম্পর্কে উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। ওয়েব অ্যাপলিকেশন প্রস্তুতের ওয়েব অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপলিকেশনসহ প্রাকটিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন প্রদান করেন সিইজিআইএসের প্রিন্সিপাল স্পেশালিস্ট মো. মোস্তাফিজুর রহমান আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।