মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না। এই ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে
তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৬২টি পরিবার ২ শতক জমিসহ স সেমিপাকা ঘর পেয়েছেন। আজ বুধবার চতুর্থ পর্যায়ে আরও ৩৯ হাজার ৩৬৫টি পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর মধ্য দিয়ে আজ মাদারীপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সব উপজেলায় কোনো গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না। এ সাতটি জেলার মোট ১৫৯টি উপজেলাকে গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন সরকারপ্রধান। এর আগে গত জুলাই
মাসে পঞ্চগড় ও মাগুরার দটি জেলার ৫২টি উপজেলা গৃহহীন ও ভূমিহীন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোট ৯টি জেলার ২১১টি উপজেলা আজ থেকে কোনো গৃহহীন ও ভূমিহীন রইল না।
আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এই নিয়ে মোট দেশের ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৭টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরসহ ২ শতক জমি পেল।
আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউপির নওয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার উত্তরপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে চতুর্থ পর্যায়ের প্রথম ধাপের ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করবেন। এ ছাড়া আরও ২২ হাজার ৬টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের জন্য গৃহহীনদের জন্য ৬ হাজার একশ একর খাসজমি উদ্ধার করেছে সরকার। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ হাজার ৩শ কোটি টাকা। আর ২০৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ৩০৬ দশমিক ৩৭ একর জমি কিনে ১৩ হাজার ১৬৮টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছে সরকার।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম দুই ধাপের ঘর নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। শুরুর দিকে কিছু ত্রুটির কারণে কয়েকটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। এতে ঘরগুলোর নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ানো হয়। এখন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সেমিপাকা ঘরে সঙ্গে থাকছে খেলার মাঠ, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। নতুন নির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন জায়গা পরিদর্শনও করে।
বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনও শ্যামল চন্দ্র বসাক জানান, ইতিমধ্যে ভূমিহীন পরিবার ঘরে উঠে বসবাস করছে। সেখানে রয়েছে খেলার মাঠ, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা।
সরকারি হিসাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত জেলা ও উপজেলায় নতুন করে ঘর পাওয়ার উপযোগী পাওয়া গেলে তাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হবে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, ‘নদীভাঙন বা অন্যান্য কারণে কেউ যদি ভূমিহীন হন, তাদেরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
সরকারি হিসাবে ১৯৯৭ সাল থেকে চলতি ২১ মার্চ পর্যন্ত আশ্রয়ণ, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৭টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এসব তথ্য জানান।