দেশের সুপারস্টার, আলোচনায় তিনি বরাবরই থাকেন। কিন্তু সেই আলোচনা দুদিন পর বন্ধও হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক ইস্যুতে শাকিব খানকে নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। বলা ভালো, আলোচনা-সমালোচনা দুটোই দেখা যাচ্ছে তাকে ঘিরে। তার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’-এর সহ-প্রযোজক রহমত উল্লাহর অভিযোগগুলোর জন্যই মূলত তিনি আলোচনায়। এর মধ্যে চলছে তার ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনাও।
গত ২১ মার্চ ছিল বুবলীর ঘরে তার পুত্রসন্তান বীরের জন্মদিন। আর সেই জন্মদিনের কেক কাটার ছবি এখন ভাইরাল। দেখা যাচ্ছে বীরের পাশে হাসিখুশি শাকিব ও বুবলী। এদিকে বুবলী-অপু দুজনই শাকিবের এই বিপদের সময় তাকে নিয়ে একের পর এক ইতিবাচক স্ট্যাটাস দিয়ে চলেছেন ফেসবুকে। এসবের মধ্যেই খবর আসন্ন রোজার ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খান ও শবনম বুবলী অভিনীত চলচ্চিত্র ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’। গত মঙ্গলবার প্রযোজনা সংস্থা বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া, নির্মাতা তপু খান ও শাকিব খানের পক্ষ থেকে সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। তপু খান বলেন, ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’ একটি বড় পরিসরের সিনেমা। আমাদের বড় উৎসব ঈদ। ঈদে ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। আশা করি বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন গতি দেবে সিনেমাটি। বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরে আমি সন্তুষ্ট। শাকিব খান এবং বুবলীসহ সবাই আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। দর্শকরা ঈদে পেতে যাচ্ছে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র।’
নির্মাতা জানান, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ।’ চলচ্চিত্রটির প্রযোজক বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের পরিচালক, সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, ‘‘দর্শকদের একটি পূর্ণাঙ্গ এবং মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র উপহার দেওয়ার জন্যই কিছুটা দেরি করতে হয়েছে। সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পর আজ আমরা দর্শকদের বলতে চাই লিডার : আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রটি ঈদুল ফিতর ২০২৩-এ বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক থিয়েটারে একযোগে শুভ মুক্তি পেতে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘দর্শকদের জন্য বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে এটি ঈদ উপহার।’ শাকিব খানের ফেসবুক পেইজ থেকে ছবিটির পোস্টার শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এই ঈদে মুক্তি পাচ্ছে, লিডার: আমিই বাংলাদেশ।’
‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’-এর কাহিনি ও সংলাপ লিখেছেন দেলোয়ার হোসেন দিল। শাকিব খান, বুবলীর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, শহিদুজ্জামান সেলিম, এল আর সীমান্ত, সুব্রতসহ অনেকে। ছবিটি পরিবেশনার দায়িত্ব পেয়েছে টিওটি ফিল্মস।
এদিকে, শাকিব খানের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় ধর্ষণ ইস্যুতে এতদিন চুপ থাকলেও এবার মুখ খুলেছেন এই চলচ্চিত্রের পরিচালক আশিকুর রহমান। তিনি জানান, শাকিব খানের নামে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেসব ত্রুটিপূর্ণ ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় আশিকুর রহমান লিখেছেন, “ ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে বিগত কয়েক দিনে যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে আমার অবস্থান ও বক্তব্য উপস্থাপন করছি।’’ তিনি বলেন, শাকিব খান ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দুইবার অস্ট্রেলিয়ায় শ্যুটিং করতে আসেন। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সাত-আট দিনের শ্যুটিং করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে ‘সুপার হিরো’ চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করতে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তিনি নাকি পালিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে, যেটা বাস্তবে কখনো হওয়া সম্ভব নয়। এই দেশে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে, তা খতিয়ে শেষ না দেখা পর্যন্ত তাকে দেশত্যাগ বা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে এই দুই চলচ্চিত্রের সব কলাকুশলী সম্মান ও আতিথেয়তা সহকারে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং চলে যান। রহমত উল্লাহর অভিযোগ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ করার মাধ্যমে কী লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে, সেটা অভিযোগকারীর কাছেই পরিষ্কার নয়। যদি অনৈতিক কোনো কাজ কেউ করে থাকেন, তাহলে তা যেকোনো দেশের আইনেই অপরাধযোগ্য এবং আমাদের সবারই সেটার বিচার চাওয়া উচিত। কিন্তু ঘটনার বদলে টাকা বা অন্য কোনো সুবিধা চাওয়াটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। একটি চলচ্চিত্রের ঘাড়ে বন্দুক রেখে, ব্যক্তিগত রোষানলের বিষয়ের সমাধান করা অগ্রহণযোগ্য।’
এদিকে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ চলচ্চিত্র নিয়ে এই ছবির মূল প্রযোজক ভার্টেক্স মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী জানে আলমও এর আগে বলেন, ‘‘শাকিব খানের সঙ্গে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবিটি নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্টেক্স মিডিয়ার চুক্তি হয়। আর ভার্টেক্স মিডিয়ার সঙ্গে সহ-প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয় সিনেফ্যাক্ট, যার মালিকানায় আছেন মাহিন আবেদীন, রহমত উল্লাহ ও অস্ট্রেলীয় এক নারী। শাকিব খানের বিরুদ্ধে রহমত উল্লাহ অভিযোগ উত্থাপন করলেও এসবের কিছুই জানেন না অস্ট্রেলীয় অংশের দুই সহ-প্রযোজক। এমনকি শাকিব খানের সঙ্গে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবিটি নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয়েছে, তার কর্তাব্যক্তিরাও কিছুই জানেন না। জানে আলম এও বলেন, ‘আমাদের দুই পক্ষের (ভার্টেক্স মিডিয়া ও সিনেফ্যাক্ট) অন্তর্কোন্দলের কারণে ছবির কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। ছবির কাজ বন্ধের ব্যাপারে শাকিব খানের কোনো হাত নেই। রহমত উল্লাহ বারবার যে বলছেন শিডিউলের কথা, এই শিডিউল শাকিব খানের কাছে চাওয়ার অধিকারও তার নেই। এটা নিয়ে কথা বলবে শুধু ভার্টেক্স মিডিয়া।’