ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ গড়ে ১৬০ টাকা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৯০ টাকায়। মুরগি ব্যবসায়ীরা মুচলেকা দেওয়ার পরও দামের কোনো নিয়ন্ত্রণ এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। দামের নিয়ন্ত্রণ না এলে ব্রয়লার মুরগি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।রমজান উপলক্ষে বাজার তদারকির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারের নিত্যপণ্য বিক্রয়কারী ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও।
সফিকুজ্জামান বলেন, ‘উৎপাদন খরচের সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারের কোনো মিল নেই। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের পর্যবেক্ষণে মুরগির দাম ২০০ টাকার বেশি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এর প্রতিকারে সরকারকে আটটি প্রস্তাবনা দিয়েছি।’
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে মুরগি আমদানির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ডাল, ছোলাসহ অনেক পণ্যের দাম কমেছে, বেড়েছে শুধুই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম। কোনোভাবেই এক কেজি মুরগির দাম ২৫০ থেকে ৩০০ হতে পারে না। তাও যদি হয় তাহলে সরকারকে বলব পাশর্^বর্তী দেশ থেকে মুরগি আমদানি শুরু করতে।’
এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘বাজারে অনেক পণ্যের দাম কমেছে। শুধু ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। আমরা দেখেছি, দোকানদার যে দামে কিনেছেন, তার থেকে অনেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এটি যৌক্তিক নয়। নিত্যপণ্যসহ ব্রয়লার ও ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সব বাজার কমিটির নেতাদের এফবিসিসিআইয়ে ডেকেছি আজ। এর আগে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা করেছি। সেখানে বাজার কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা অতিরিক্ত দাম নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কমিটি ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসায় গতকাল সন্ধ্যায় ভোক্তা অধিকার ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, বাজারে পোলট্রি (ব্রয়লার মুরগির অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে আজ দুপুর দেড়টার মধ্যে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো। সঠিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে “ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯” অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।