মতামত

সমস্যাটা দৃষ্টিভঙ্গির

‘চেয়ার’ যখন একজন মানুষকে, চরিত্র বদল করায়- তখন ভাবতে হবে, মানুষটি শতভাগ মূর্খ। হতে পারেন, অনেক উচ্চশিক্ষিত। পুথিগত বিদ্যায় যে মূর্খতা দূর হয় না, সেই প্রমাণ দিলেন- রংপুরের জেলা প্রশাসক চিত্রলেখা নাজনীন। সেই বিদ্যার জোরে তিনি, ডিসি হয়েছেন।

দুঃখের বিষয়, মানুষ হতে পারেননি। প্রশাসনে যখন দাস-প্রভু মানসিকতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন বুঝতে হবে- দাসদের টাকায় বেতন নিয়ে বেঁচে থাকা সেই প্রভু হাঁটছেন ভুল পথে। কারণ, সময় পাল্টে গেছে। এখন যা ইচ্ছে, তাই করা যাবে না। তবু তিনি হেঁটেছেন। জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক যেখানে ‘হৃদ্যিক’ হওয়ার কথা, সেখানে তিনি সেই জনগণের কাছেই- ‘স্যার’ ডাক শুনতে উদ্গ্রীব!

রংপুরের জেলা প্রশাসক চিত্রলেখা নাজনীন। তিনি জনগণের সেবা করবেন। জেলার মানুষের সমস্যা-সংকটে পাশে থাকবেন। অথচ সেই তিনিই যদি, ‘স্যার’ সম্বোধন করে কথা বলতে নসিহত করান কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপককে, তাহলে বিষয়টা কেমন হলো? তিনি জানেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কাদের বহন করতে হয়। সম্ভবত এও জানেন, তিনি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী। তার এমন উদগ্র বাসনার কারণ জানা গেলে, ভালো হতো।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিক্ষক ওমর ফারুকের সঙ্গে যদি তিনি ক্ষুব্ধ আচরণ করেন, তাহলে বোঝাই যায়- সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোন ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত! আমরাও তাহলে বলি- জ্বি স্যার, ভালো থাকবেন। আপনার মতোন জেলা প্রশাসকেরই প্রয়োজন বাংলাদেশের।