দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সামসুজ্জামান মানিক নামে কথিত এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুকুর খননের নামে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরের ৩৫টি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার লালমাটি গ্রামের ভুক্তভোগী ৩টি হিন্দু পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশ করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৩ বছর আগে মানিক ও অন্য এক ব্যক্তি নদীর পাড়ে কিছু জমি কিনে নেয়। এরপর তারা ব্যক্তিগত জমিতে পুকুর খননের নামে দুটি ভারী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। এর কিছুদিন পর পুকুরের জায়গার পাশের মহিলা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ দিলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে একবার বালু উত্তোলন বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। এরপর আবারও ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বালু উত্তোলন শুরু করে সে।
স্থানীয় বিশ্বনাথ রায় বলেন, ‘নদীর পাড়ের কিছু আবাদি জমি ও বসতভিটা ছাড়া আমাদের কিছু নেই। নিয়মিত বালু তোলায় আমাদের বাড়িঘরসহ সবকিছু নদীতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
অভিযুক্ত সামসুজ্জামান মানিক নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা বলে দাবি করেন। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদের আলী খন্দকার বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো পদে মানিক নেই। দলীয় মিছিল মিটিংয়েও তাকে কখনো দেখা যায়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে সামসুজ্জামান মানিক বলেন, ‘আমি আমার নিজের জমিতে পুকুর খনন করছি। হিন্দু পরিবারের দু’একজন আমাকে নিয়ে চক্রান্ত করছে।’ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’