সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মামুন হত্যা মামলার আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো সহায়তা চায়নি। তবে আরাভ খান নজরদারিতে আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন এই তথ্য জানান। আরাভকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কাজ করছে এই প্রশ্নে সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি আমাদের কাছে কোনো সাহায্য চায় বা আমাদের যে দূতাবাস আছে সেখানে সাহায্য চায়, তবে অবশ্যই তাদের তথ্য প্রদান করা হবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কয়েকদিনের মধ্যে সহায়তা চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত চায়নি। দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে আমরা তথ্য প্রদান করব।’
প্রসঙ্গত, আরাভ খানকে নিয়ে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, আরাভ নজরদারিতে আছে। ওই দিন দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে আরাভ খানের গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘আরাভ গ্রেপ্তার হননি। তিনি পালিয়ে থাকতে পারবেন না, নজরদারিতে আছেন।’ এরপর গত ৪৮ ঘণ্টায় তথা দুই দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য রয়েছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে সেহেলী বলেন, প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার বেশি তথ্য আমার কাছে এখন নেই। তিনিও বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি আরাভ এখন পর্যন্ত নজরাধীন আছে। এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে আমরা জানি।’
রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের ভারতীয় পাসপোর্ট আছে। সেক্ষেত্রে দুবাই থেকে তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জটিলতা আছে কি না এই প্রশ্নে সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘ভারতের পাসপোর্টের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিষয়। কাজেই ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল করে তাকে দেশে ফেরত আনা হবে কি না সেটা স্বরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানবে। তবে আমাদের কাছে তথ্য উপাত্ত চাওয়া হলে আমরা সহায়তা করতে পারি।’
সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেওয়া প্রতিবেদন সম্পর্কেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অনুবিভাগের মহাপরিচালক সেহেলী। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন বিচার বিশ্লেষণ করে জবাব দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের পয়েন্টগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। যাচাই-বাছাই করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হবে। আমরা এরমধ্যে কাজ শুরু করেছি।’
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
তিস্তায় খাল খননের বিষয়ে এরই মধ্যে ভারতীয় হাই কমিশনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এর জবাব এসেছে কি না জানতে চাইলে সেহেলী বলেন, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনকে একটি অফিশিয়াল চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো উত্তর আসেনি।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন থেকে অর্থ বেহাতের অভিযোগ সম্পর্কে সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘সেখানকার মিশনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।’ মানব পাচারের অভিযোগ সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাস খোঁজ খবর রাখছে। আমরা জানতে পেরেছি ছয়জন নাগরিক আটক হয়েছেন। দূতাবাস কাজ করছে।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশ থেকে দেশে আনতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান মুখপাত্র। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই বিষয় আলোচনা হয়ে থাকে। আমরা আশাবাদী বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা যাবে।