আল্লাহ তায়ালার দরবারে অসংখ্য শোকরিয়া। বৃষ্টিহীনতার কারণে শুষ্ক-রুক্ষ ও ভ্যাপসা গরমের অসহনীয় আবহাওয়া রমজানের প্রথম দিনেই কেটে গেছে। মাহে রমজানের প্রথম দিন বৃষ্টির সুশীতল পরশ জনজীবনে অপার প্রশান্তি এনে দিয়েছে। এমন স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া অবশ্যই রোজাদারবান্ধব। যদিও রোজাদাররা যেকোনো পরিবেশ ও আবহাওয়ায় রোজা পালনে প্রস্তুত। আল্লাহ তায়ালা ইমানদারদের জন্য রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ সুরা বাকারা : ১৮৩
বর্ণিত আয়াতে বলা হচ্ছে, ক. ইমানদারদের জন্য রোজা রাখা ফরজ। খ. রোজা কেবল এই উম্মতের ওপরই ফরজ নয়, পূর্ববর্তীদের ওপরও ফরজ ছিল। গ. রোজা ফরজ করার উদ্দেশ্য হলো মুমিনগণ যাতে তাকওয়া অর্জন করতে পারে। তো দেখা যাচ্ছে, রোজার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছেÑ তাকওয়া হাসিল করা। প্রশ্ন হলো, তাকওয়া কী, যে তাকওয়া অর্জনের তাগিদ কোরআন মজিদের পরতে পরতে দেওয়া হয়েছে।
তাকওয়ার সবচেয়ে ভালো সংজ্ঞা দিয়েছেন সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)। একবার হজরত উমর (রা.) হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তাকওয়া কী? উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, আপনি কি কখনো কাঁটা বিছানো পথে হেঁটেছেন? হজরত উমর (রা.) বলেন, হ্যাঁ। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, (কাঁটা বিছানো পথে) আপনি কীভাবে হেঁটেছেন? উমর (রা.) বলেন, খুব সাবধানে, কষ্ট সহ্য করে হেঁটেছি, যাতে আমার শরীরে কাঁটা বিঁধে না যায়। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, এটাই হচ্ছে তাকওয়া। -তাফসিরে কুরতুবি
কাঁটাযুক্ত পথে কাঁটা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যেভাবে সতর্ক হয়ে চলে, ঠিক সেভাবে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য আল্লাহ যা ভালোবাসেন, সেই অনুযায়ী আমল করার নাম তাকওয়া। মূলত তাকওয়া অন্তরের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সহজ বাংলায় বলা হয়, আল্লাহভীতি।
তাকওয়া হচ্ছে সব ভালো কাজের উৎস, পুণ্য কাজের জন্য পথের দিশারি। তাকওয়া হচ্ছে ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর আজাব থেকে বেঁচে থাকা। আগের ও পরের সব উম্মতকে তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, অন্তর ও সব অঙ্গকে গোনাহ ও হারাম কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার নাম তাকওয়া।
এর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য মেলে ও তার নৈকট্য পাওয়া যায়। শেষ পরিণাম ভালো হয়। উত্তম প্রতিদান পাওয়া যায়। সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জিত হয়। অফুরন্ত রিজিক পাওয়া যায়। জান্নাত পাওয়া যায় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
রমজান মাসের রোজা এক মহিমান্বিত আমল, এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার অতীতের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং সওয়াবের প্রত্যাশা রেখে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার আগের গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।’ -সহিহ বোখারি : ৩৮
হাদিসে বর্ণিত ইমান (বিশ্বাস) ও ইহতিসাবের (প্রত্যাশা) উপলব্ধি জাগ্রত রেখে রোজা রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল এবং বান্দার গোনাহ মাফের একটা মাধ্যম। এই মাধ্যমকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এমন সংকল্প হোক রোজাদারদের।
লেখক : খতিব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ