ইন্টেল করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুর আর নেই। শুক্রবার (২৪ মার্চ) ৯৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তিনি কম্পিউটার প্রজন্মের উন্নয়নের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। ইন্টেল ও মুরের পারিবারিক দাতব্য সংস্থা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মুরের মৃত্যুর সময় পরিবারের সব সদস্যই তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬৮ সালের জুলাই মাসে রবার্ট নয়েসের সঙ্গে ইন্টেল করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন মুর। তিনি তখন অল্প পরিচিত একজন প্রকৌশলী ছিলেন। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার আবিষ্কৃত সূত্রের বদৌলতে বিশ্বের ৮০ শতাংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার শুরু হয়।
মুর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইন্টেল করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৫ সালে তিনি ইন্টেলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন, যা পালন করেন ১৯৮৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালে তাকে ইন্টেলের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ঘোষণা করা হয়। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাবেক চেয়ারম্যান এবং আজীবন ট্রাস্টি।
১৯৬৫ সালে এক লিখিত নিবন্ধে মুর বলেন, ‘প্রযুক্তির উন্নতিকে ধন্যবাদ। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর মাইক্রোচিপগুওলাতে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’ তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। পরে তা ‘মুরের সূত্র’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
মুর তার নিবন্ধে আরও লিখেন, ‘ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটগুলো আমাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে আরও বিস্ময়কর করে তুলবে।’ এই ভবিষ্যদ্বাণী তিনি করেছিলেন ব্যক্তিগত কম্পিউটার বিপ্লবেরও ৪০ বছর আগে। মুরের প্রবন্ধের পর থেকেই চিপগুলো আরও দক্ষ এবং সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা অর্ধ শতাব্দী ধরে বিশ্বের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এর ফলে তৈরি হয় অ্যাপল, গুগল ও ফেসবুকের মতো সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টগুলোর আবির্ভাবের পথ।