বন্যায় এতিম পাঁচ শতাধিক নেপালি শিশু

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

নেপালে ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কেউ নিখোঁজ, কেউ আবার মারা গেছেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

নেপালের বিভিন্ন বন্যাকবলিত জেলার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছে এসব শিশুরা।

নেপালের আইনে কোনো ব্যক্তিকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ বছর না পেরোনো পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করা যায় না। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মে ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বজনদের জেলা আদালতে আবেদন করে মৃত্যুর বিচারিক ঘোষণা নিতে হয়।

ফলে এসব শিশুর জীবন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে। আইনগতভাবে তারা এখনো ‘এতিম’ নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বন্যার পর থেকেই তারা বাবা-মাকে ছাড়া জীবন কাটাচ্ছে। ভয়াবহ ওই বন্যায় নেপালে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ৫,০০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ। 

নেপালের ন্যাশনাল চাইল্ড রাইটস কাউন্সিল ও বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন চলতি মাসে বন্যা-পরবর্তী একটি মূল্যায়ন চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, এক হাজারের বেশি শিশু বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি কোনো স্বজন ছাড়াই রয়েছে। আরও ৪৩৯ শিশু বাবা-মাকে হারালেও অন্যান্য আত্মীয়ের সঙ্গে আছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের নেপাল কার্যালয়ের কর্মসূচি পরিচালক আয়ুশ যোশি আল জাজিরাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ধাদিংয়ের যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে, সেখানে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা, কাউন্সেলর ও শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপদ ও স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট হচ্ছে না।

শিশুদের জন্য খেলনা, বই ও বিভিন্ন খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে খুব কম শিশুই সেগুলো ব্যবহার করছে। অনেক শিশুই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না, আবার কেউ কেউ এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে খেলাধুলা করার মতো অবস্থাতেও নেই।

সেভ দ্য চিলড্রেনের আয়ুশ যোশি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিশুদের মধ্যে খেলনা ও পড়াশোনার সামগ্রী বিতরণ করেছে সংস্থাটি। কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকেরা এমন শিশুদেরও দেখেছেন, যাদের বাবা-মা নিখোঁজ—তারা পুতুলের ঘরে পুতুল দিয়ে 'বাবা-মাসহ পরিবার' তৈরি করছে এবং সেটি সাজিয়ে রাখছে।

যোশি বলেন, 'সম্ভবত এসব শিশুই ঠিকমতো বুঝতে পারছে না, আসলে কী ঘটেছে বা কেন ঘটেছে। পরের দিন কী হবে, এমনকি ভবিষ্যতে কী হবে—কোনো কিছুই তারা জানে না।'

অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা এখন অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তারও তেমন সুযোগ নেই। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, নিজেদের স্বজন দাবি করা ব্যক্তিদের হাতে শিশুদের তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

ইউনিসেফের কর্মকর্তা লিওন মুওনি বলেন, 'কিছু শিশুর স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলেও, তারা যদি পর্যাপ্ত কাগজপত্র বা অভিভাবকত্বের প্রমাণ দিতে না পারেন, তাহলে শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রেই রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশু পাচার বা শিশুশ্রমের ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।' 

বন্যায় মোট ৩২ হাজারের বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাদের পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে শিশুদের পুনর্মিলনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফ নেপালের শিশু সুরক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিওন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত