নওগাঁয় সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘র্যাবের হেফাজতে নওগাঁয় একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই নারী সরকারি কর্মচারী ছিলেন। তার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চিকিৎসকরা বলেছেন, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবী নেতাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুলতানা জেসমিন বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাকে র্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ৩৬ ঘণ্টা পর এ ঘটনায় এফআইআর হয়নি। মারা যাওয়ার পর আবার তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, অসহায়, সাধারণ মানুষ নিরাপদ মনে করছে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। ফ্যাসিবাদী সরকার সে অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন না। সেল্ফ সেন্সরশিপ করতে হচ্ছে। সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সারা দেশে খুন, গুম, হামলা, মিথ্যা, গায়েবি মামলা ও নির্যাতন করে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে।’
এর আগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল বর্তমান সরকারকে পাকিস্তান বাহিনীর প্রেতাত্মা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ এখন এটা একাত্তর সালের পাকিস্তান বাহিনীর এবং পাকিস্তান শাসকের প্রেতাত্মার বাংলাদেশ। পাকিস্তানিরা যেভাবে শাসন, শোষণ ও মানুষের রক্ত চুষে নিয়েছে একইভাবে এই আওয়ামী লীগ সরকার যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তারা একইভাবে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করছে, তাদের রক্ত শোষণ করছে এবং মানুষকে তারা ভয়ংকরভাবে নির্যাতন করছে।’
গণসমাবেশে সারা দেশের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। গণসমাবেশে মঞ্চে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য একটি চেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সাতজনের (তারেক রহমান, শ্যামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায় চৌধুরী, সোনিয়া সান্তা ও জামাল হোসেন টুয়েল) হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানকে দেওয়া বাংলাদেশের পতাকা গ্রহণ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ফজলুর রহমান, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন, সিরাজুল হক প্রমুখ।
মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ইনস্টিটিউশনের বাইরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীর-উত্তম এবং গণসমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।