আজ থেকে ব্যক্তিগত চেম্বার ১২ জেলা ৩৯ উপজেলায়

যেসব সরকারি হাসপাতালে ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসকরা রোগী দেখবেন, সেসব হাসপাতালের তালিকা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে আট বিভাগের ১২টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৩৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখবেন এসব হাসপাতালের চিকিৎসকরা। গতকাল বুধবার এ তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এসব হাসপাতালে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করার কথা চিকিৎসকদের। তবে প্রথম দিন ঠিক কতটি হাসপাতালে ও কীভাবে রোগী দেখা হবে, সে ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আপাতত এসব হাসপাতালে রোগী দেখা হবে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাদের সুবিধা অনুযায়ী রোগী দেখার ব্যবস্থা করবেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. শেখ দাউদ আদনান দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলাভিত্তিক হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরুর প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন। আশা করছি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) থেকেই শুরু হবে। তবে সম্পূর্ণ কর্মসূচি শুরু হতে দু-একটা দিন সময় লাগবে। আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।

সরকারি হাসপাতালে ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসকদের রোগী দেখার জন্য ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস নীতিমালা-২০২৩’ করা হয়েছে। নীতিমালায় চিকিৎসকদের ফি ও রোগী দেখার সময় নির্ধারণ এবং চেম্বারের পরিচালনার দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১১ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিকেলে রোগী দেখেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২০০ টাকার টিকিট দিয়ে ২৪টি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারেন রোগীরা। নতুন চালু হওয়া বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও চলছে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস।

তালিকায় ১২ জেলা সদর হাসপাতাল : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, দেশের ৩৯ জেলার ১২টি জেলা সদর হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, জামালপুর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, ভোলা ও সুনামগঞ্জের জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে।

৩৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : একইভাবে ৩৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী দেখা হবে। এসব উপজেলা হলো ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও সাভার, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, টাঙ্গাইলের মধুপুর, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া ও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা।

চট্টগ্রাম বিভাগের যেসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখা হবে সেগুলো হলো নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ, চট্টগ্রামের পটিয়া, কুমিল্লার দাউদকান্দি, কক্সবাজারের পেকুয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া ও বান্দরবানের লামা উপজেলা।

ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, শেরপুরের নকলা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী দেখবেন চিকিৎসকরা।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগের যশোর জেলার কেশবপুর ও মনিরামপুর, মাগুরার শ্রীপুর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম, রাজশাহীর পবা ও নওগাঁর সাপাহার, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, রংপুরের গঙ্গাচরা ও বদরগঞ্জ, নীলফামারীর ডোমার, বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার আমতলী, বরিশালের আগৈলঝরা, ও ভোলার চরফ্যাশন এবং সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, সিলেটের গোপালগঞ্জ ও বিশ্বনাথ, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরু হচ্ছে।

সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা ফি : হাসপাতালের ডিউটি শেষে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একজন চিকিৎসক সপ্তাহে দুদিন রোগী দেখবেন। এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে। এসব চেম্বারে চিকিৎসকদের দেখাতে নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে রোগীদের। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের সার্জারি, ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিক্যাল, প্যারা-ক্লিনিক্যাল টেস্টসহ বিভিন্ন রকম পরীক্ষার জন্যও বৈকালিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপককে ৫০০, সহযোগী অধ্যাপককে ৪০০, সহকারী অধ্যাপককে ৩০০ এবং অন্য চিকিৎসককে ২০০ টাকা করে ফি দিতে হবে। এসব ফি থেকে অধ্যাপকরা ৪০০, সহযোগী অধ্যাপক ৩০০, সহকারী অধ্যাপক ২০০ এবং অন্যান্য চিকিৎসক ১৫০ টাকা করে পাবেন। বাকি টাকা প্রত্যেক চিকিৎসকের সঙ্গে দুজন করে সহযোগী থাকবেন এবং তারা প্রত্যেকে ৫০ টাকা করে পাবেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হবে : গত সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিসের সময় রোগীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথাও জানান। তিনি জানান, বৈকালিক চিকিৎসাসেবায় ছোট অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্য যে সেবাগুলো থাকে, সেগুলোও থাকবে। আর এসব সেবারও মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তার একটি অংশ পাবেন চিকিৎসক ও সহযোগিতাকারীরা, আরেকটি অংশ পাবে হাসপাতাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একজন চিকিৎসককে সপ্তাহে মাত্র দুদিন অতিরিক্ত তিন ঘণ্টা করে সেবা দিতে হবে। তবে এ সেবা যাতে মানুষ সপ্তাহে অন্তত ছয় দিন নিশ্চিত করে পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানরা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।