ধর্ষণের পর হত্যা

নিখোঁজের ৮ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর লাশ

চট্টগ্রামে বিড়ালছানা আনতে বের হয়ে নিখোঁজের আট দিনের মাথায় বস্তাবন্দি এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে নগরীর পাহাড়তলী থানার আলম তারা পুকুরপাড়া মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নগরীর পাহাড়তলী থানার কাজীর দীঘি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত শিশুটি। স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২১ মার্চ বিড়ালছানা আনতে গিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় জিডি করেন। থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে মামলা করেন। এতে শিশুটির বাসার পাশের সবজি বিক্রেতাকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শিশুর মা পোশাক কারখানার শ্রমিক। বাবা একই পেশায় ঢাকায় কর্মরত। স্কুলের এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পেরে শিশুটি বিড়ালের ছানা আনতে যায় ওই সবজি বিক্রেতার কাছে। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বাসার পাশের সবজি বিক্রেতাকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে গতকাল সকালে ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে ভিড় জমায়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শিশুর মা। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলতে থাকেন, ‘আমার জাদুকে কে মারল?’

এই শিশুর লাশ উদ্ধারের সাড়ে চার মাস আগে গত বছর ২৫ নভেম্বর সাত বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করেছিল চট্টগ্রাম পিবিআই। চতুর্থ শ্রেণির এ শিক্ষার্থীর মতো আয়াত ১০ দিন আগে গত ১৫ নভেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে মক্তবে পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাদের বাসার ভাড়াটিয়া আবির মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে শিশুটিকে অপহরণ এবং পরে হত্যার কথা স্বীকার করে আবির।

তারও আগে ২৪ অক্টোবর নগরীর জামালখান এলাকায় বাসা থেকে চিপস কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সাত বছরের এক শিশু। পরদিন বাসার পাশে একটি নালা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসার পাশের দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।