সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তাদের অর্থ আত্মসাৎ, পাচার ও নানা অনিয়মের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সীমায় পরিবর্তন আনল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা হবে ৮০ শতাংশ, যা আগে ছিল ৬০ শতাংশ। গতকাল এসইসির নিয়মিত সভায় পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বৈশ্বিকভাবে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখলেও দেশে তা অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস (ইউএফএস) লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাধীন চারটি ফান্ড থেকে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে এসইসির তদন্ত কমিটি। ইউএফএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর চার ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে গেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও খন্দকার আসাদুল ইসলাম তার ব্যবস্থাপনাধীন মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বেআইনিভাবে ৪৫ কোটি ৭ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন কিংবা অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করে তা পাচার করেছেন বলে এসইসির চিঠিতে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যেই গত বুধবার খন্দকার আসাদুল ইসলাম যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সেজন্য বাংলাদেশ পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছে এসইসি।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তাদের তহবিলের অর্থ আত্মসাতের এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা বাড়ানোর নির্দেশনা দিল এসইসি। এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল আরও দুটি বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাসের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এগুলো হচ্ছে ইউসিবি ইনকাম পালস ফান্ড ও বিএমএসএল ন্যাশনাল হাউজিং গ্রোথ ফান্ড। এর মধ্যে ইউসিবি ইনকাম পালস ফান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা ও বিএমএসএল ন্যাশনাল হাউজিং গ্রোথ ফান্ডের প্রাথমিক আকার ২৫ কোটি টাকা।