২২টি অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগে সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে মুজিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সেই দুদকই বলছে মন্ত্রীপুত্রসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলেনি। তাই চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে পাঁচ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে দুদক।
আগামী ৯ এপ্রিল ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। বিষয়টি গতকাল দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক।
নিজেরা মামলা করলেন, আবার নিজেরাই আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তে যা পেয়েছি, কমিশনে তা তুলে ধরেছি। কমিশন থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি।’
অব্যাহতির সুপারিশ করা পাঁচজন হলেন সাবেক মন্ত্রীর ছেলে মুজিবুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) মো. সারওয়ার হোসেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষিণ জোনের টেকনিশিয়ান (সার্ভেয়ার) মো. দিদারুল আলম, ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী।
২০২১ সালের ১০ জুন মন্ত্রীপুত্রসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন চাকরিচ্যুত দুদকের উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন। মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, হালিশহর এলাকার বাসিন্দা এম এ সালামের নামে বরাদ্দ করা ১৮টি অব্যবহৃত দ্বৈত চুলার গ্যাস সংযোগ ছিল। এর মধ্যে ১২টি চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকার গ্রাহক মুজিবুর রহমানের নামে স্থানান্তর করা হয়। এ কাজে সালামের স্ত্রীর নামে ভুয়া চুক্তিনামাও করা হয়। সালাম ও মুজিবুরের গ্রাহক সংকেত পৃথক হওয়ায় সংযোগ স্থানান্তরের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তাছাড়া ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সরকারিভাবে বন্ধ থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাবেক মন্ত্রীপুত্র মুজিবুরের নামে আরও ১০টি সংযোগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ সময়কালে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরির মাধ্যমে মুজিবুরের নামে মোট ২২টি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর ১৩ জুন অবৈধ ওই ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দুদক কেজিডিসিএলের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।