ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে পুলিশে দিলেন মেয়র

জমি দখলের অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেওয়ায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানুর বিরুদ্ধে। মারধরের পর সাবেক শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর হোসেন আবাহনীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করেছেন মেয়র। গতকাল ওই মামলায় পুলিশ নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার বিকেলে মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানুকে ভূমিদস্যু-সন্ত্রাসী উল্লেখ করে ফেসবুক লাইভে এসে মেয়রের জমি দখল সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন নূর হোসেন। মেয়রের অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি পৌরসভার মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও দাবি করেন। পরে তার ভিডিওটি ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই দিন ইফতারের আগে মেয়রের লোকজন নূর হোসেনকে ধরে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। তার মাথার চুল কেটে ও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। পরে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। এর মধ্যে মেয়র ছানোয়ার হোসেন নিজেই বাদী হয়ে ওই নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

নুর হোসেন আবাহনী বলেন, আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ সব সময় করতাম। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ফলে আজ ভূমিদস্যু মেয়র আমার এ অবস্থা করছে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, এটা আমার বাবার জমি। আমার বাপের জমিতে সে লাইভ করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আপনারা আসেন, দেখেন।

জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানুর বিরুদ্ধে ফেসবুকে বক্তব্যে দেওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর চড়াও হয়। তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। তার বিরুদ্ধে মেয়র বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, ২ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের লাইভে সাবেক ছাত্রনেতা নুর হোসেন আবাহনীকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রিয় জামালপুরবাসী, আজকে আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখাব। আপনারা অতীতে দেখেছেন যে কীভাবে পাকিস্তানিরা আমাদের শাসন এবং শোষণ করেছে। এখন আপনারা দেখতে পারবেন পাথালিয়া পশ্চিমপাড়ায় যে কীভাবে শাসন এবং শোষণ হচ্ছে। সেই পাকিস্তানি স্টাইলে, সেই স্টাইলটা আপনারা দেখতে পারবেন। এদিকে যা দেখতেছেন এটা হচ্ছে যে আমাদের মেয়র মহোদয় ছানোয়ার হোসেন ছানু বাড়ি করবে বলে, এই জমিগুলা নিয়েছে। প্রথমে সে (মেয়র) স্টাইলটা কী করছে, সে (মেয়র) স্টাইলটা করেছে, তার বাবার একমাত্র একটা সেচ পাম্প (মেশিনপাড়) ছিল, ওই সেচ পাম্পটা দিয়ে, (মেশিনপাড়টা) তিনি কৃষকদের  আগে পানি দেওয়া বন্ধ করেছে। পানি দেওয়া বন্ধ করার ফলে আমাদের কৃষক যারা ছিল, তারা সেখানে আবাদ করতে পারে নাই। আবাদ না করার ফলে ওই যে ছোট ছোট খুঁটিগুলা দেখতেছেন এই খুঁটিগুলা লক্ষ্য করে সে একদমই বাছাই করে নিয়েছে যে সে এইভাবেই জমি জমা দখল করে নেবে। মাঝখানে কার জমি পড়েছে, সেটা তার দেখার বিষয় নাই।’