স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ট্যাক্স রিটার্নের অডিট চায় আইসিএমএবি

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং করদাতাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি দূর করার জন্য রাজস্ব ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্নের অডিট সম্পন্ন করা সমীচীন বলে মনে করে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর প্রাক-বাজেট আলোচনা এমন পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

গত ৪ এপ্রিল একটি প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আইসিএমএবি, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সায়েমা হক বিদিশা, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবির, এসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান উপস্থিত ছিলেন।

আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রহমান খান বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪ প্রণয়নে আইসিএমএবি ৬২টি প্রস্তাব সংবলিত একটি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রেরণ করেছে। উক্ত প্রস্তাবের বেশির ভাগই ছিল কর রাজস্ব বৃদ্ধি সম্পর্কে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং করদাতাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি দূর করার জন্য রাজস্ব ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্নের অডিট সম্পন্ন করা সমীচীন বলে আইসিএমএবি পরামর্শ দিয়েছে। আইসিএমএবি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইন ও প্রবিধানগুলোকে দূর করে আয়করের মৌলিক দর্শন পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে, যা দেশের প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। লোকসানের সময়কালে করদাতাদের দ্বারা প্রদত্ত ন্যূনতম করকে ভবিষ্যতে মুনাফা অর্জনের বছরগুলোতে প্রদেয় করের বিপরীতে ট্যাক্স ক্রেডিট হিসেবে অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইসিএমএবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, বাজেটের আকার নির্ধারণে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক কারণ, রাজস্ব নীতি এবং মুদ্রানীতির মতো ক্রস-কাটিং বিষয়গুলো নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করতে হবে। কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদেশি এবং স্থানীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ বনাম কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। তা সত্ত্বেও, এনবিআরের পুরো ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সততা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।