কৃষকের স্বপ্নের বোরো ধানে ছত্রাকের হানা

কিশোরগঞ্জের রূপসীর বিশাল হাওরজুড়ে চারদিকে শুধু ধান আর ধান। এই অঞ্চলের ৯০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। বছরে একবার উৎপাদিত এই বোরো ধানের ওপরই চলে তাদের সারা বছরের সংসার খরচ। কিন্তু ধান যখন ঘরে তোলার সময় হয়েছে, তখনই ধানে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ কৃষককে দিশেহারা করে দিয়েছে। হাট-বাজারে এবং গ্রামের আড্ডায় ব্রি ২৮ ধানের বিপর্যয়ের আলোচনা কৃষকের মুখে মুখে। ব্রি-২৮ ধান কাটার এই সময়ে কৃষকরা দেখছেন ধানের ভেতরে চাল নেই, সবটুকুই চিটা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুণধর, নানশ্রীর বড় হাওর, জালাল্পুর, নবীনপুর, মজলিশপুর, কাশিপুর, ডুবি, সিংপুর, ঘোরাদিগা, বোরলিয়া, গুরুই, জারুইতলা ও ছাতিরচরের জংশায় হাওরের আবাদ করা ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও ব্রি-৮৯ ধান ব্লাস্ট রোগে চরমভাবে আক্রান্ত হয়েছে। ধানগাছে ধান দেখা যায় না। দেখা যায় শুধু হলুদ-বাদামি রঙের পাতা আর শীষের চিটা।

সরেজমিনে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে কৃষকের আহাজারি। ডুবি গ্রামের কৃষক কাজীমুদ্দীনের ছেলে জমশেদ বলেন, ‘আমাদের ৭ একরের মধ্যে ১ একর জমির ব্রি-২৮ ধান আক্রান্ত হয়েছে।’ দামপাড়া কামালপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বোরলিয়া হাওরে যে কৃষকরা ব্রি-২৮ ধান রোপণ করেছে, তাদের সবারই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুস সাত্তার বলেন, ‘হাওরের অনেক এলাকায় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের আমরা বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।