প্রায় ১০ বছর আগে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘রানা প্লাজা’ ভবনধসে হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন ভবন মালিক সোহেল রানা। তার জামিন প্রশ্নে রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এ রায় দেয়।
এ মামলায় সোহেল রানাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২০২১ সালের ১ মার্চ রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট। সোহেল রানার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ১০ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন সোহেল রানা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আরও তিনটি মামলায় জামিনে আছেন তিনি। হত্যা মামলায় জামিনের ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, হত্যা মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে তারা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করবেন তারা। হত্যা মামলাটি ঢাকার একটি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবনধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হন দুই হাজারের বেশি মানুষ। আগামী ২৪ এপ্রিল এ ঘটনার ১০ বছর পূর্ণ হবে।
আদালতে সোহেল রানার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান।
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের যুক্তি ছিল, ১০ বছর ধরে সোহেল রানা কারাবাসে আছেন। কিন্তু মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাকে জামিন দিয়েছেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জামিনের বিরোধিতা করে বলেছি, এখানে সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। ওই ঘটনায় অসংখ্য লোক মারা গেছে। অন্য হত্যা মামলার সঙ্গে এ মামলার তুলনা চলে না। আমরা জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করব।’
রানা প্লাজাধসের ঘটনার পর সাভার যুবলীগ সহসভাপতি (পরে বহিষ্কৃত) সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৬ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে দুদকের নোটিসের পরও সম্পদের হিসাব বিবরণী না দেওয়া, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ইমারত আইনের মামলাসহ আরও তিনটি মামলা হয়। সম্পদের হিসাব বিবরণী না দেওয়ার মামলায় ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ সোহেল রানাকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এক রায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়।