ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি জমিতে সরকারি টাকায় নির্মাণাধীন বাজার থেকে স্থাপনা ভেঙে ইট-রড খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন ধরে স্থাপনা ভাঙার কাজ চললে খবর পেয়ে গত বুধবার প্রশাসন স্থাপনা ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দাবি, নিজের টাকায় কাজ করলেও টাকা না পেয়ে ভেঙে রড খুলে নিচ্ছেন।
জানা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া বাজারের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশেই সরকারি জমিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পাশের যে জমিটি নির্বাচন করা হয় তা নিচু শ্রেণির। এক একর ৮০ শতক জমিতে বাজার করতে শুরু করলেও সেখান থেকে স্থানীয় এমপির নামে স্কুল করার জন্য ৬০ শতক জমি নিয়ে নেওয়া হয়। বাকি জমিতে চলে বাজার স্থাপনের কাজ। ভরাট করে সেখানে স্থাপনাও করা হয়। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ৪৬ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে ‘মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সরকারি জায়গায় মাটি ভরাট’ প্রকল্প নাম দিয়ে সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪ লাখ টাকা তোলা হয়। জমিতে বাজারের জন্য শেড ঘর ও জলাশয়ের জন্য প্রাচীর তোলার কাজ করেন তৎকালীণ চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ।
এ বিষয়ে মাইজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘বাজারটির জন্য ৩৫ লাখ টাকার কাজ করলেও মাত্র ১৪ লাখ টাকা তুলতে পেরেছিলাম। বাকি টাকা সমন্বয় করে বর্তমান চেয়ারম্যানকে দিতে গত এক বছর ধরে অনুরোধ করলেও টাকা দিচ্ছে না। এতে নিরুপায় হয়ে স্থাপনা ভেঙে রড খুলে নিচ্ছি। তবে যেহেতু সরকারি জায়গা থেকে ভেঙে নেওয়ার সুযোগ নেই, তাই আর ভাঙব না।’
ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যান কীভাবে কাজ করেছে সেটি তার বিষয়। ভেঙে নিচ্ছে দেখে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘বাজারটির প্রস্তাবে ত্রুটি থাকায় অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত টাকায় কাজ করার সুযোগ নেই। ভেঙে নেওয়ার খবর পেয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’