কয়েক মিনিটেই শেষ উত্তরাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট

ঈদযাত্রায় বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শতভাগ অনলাইন মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হলেও বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কাউন্টারে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে কাল রবিবার থেকে। ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাহিদা বেশি থাকা রুটগুলোর টিকিট শেষ হয়ে যায়। প্রথম দিন বিক্রি হয়েছে ১৭ এপ্রিলের ট্রেনের আগাম টিকিট। গতকাল সকাল ৮টার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চারটি ট্রেনের কোনোটিতেই টিকিট নেই। একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা থেকে রংপুরগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে। ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের চিত্রও ছিল অভিন্ন। তবে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রুটে সব ট্রেনেই টিকিট পাওয়া গেছে। ঢাকা-খুলনা রুটেও কিছু সিট খালি দেখা গেছে।

গতকাল ২৫ হাজার ৭৭৮টি টিকিটের বিপরীতে বিক্রি শুরুর প্রথম মিনিটেই ১২ লাখ মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে রেলের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ‘সহজ’। সহজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সন্দ্বীপ দেবনাথ বলেন, ৮টা ১ মিনিটেই ১ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ৬ মিনিটে বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার অগ্রিম টিকিট। ওয়েবসাইটে ঢুকতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সহজেই প্রবেশ করতে পারছে মানুষ। ফলে কয়েক সেকেন্ডেই পেয়ে যাচ্ছে টিকিট। এ কারণে ছাড়ার কয়েক মিনিটেই টিকিট শেষ হয়েছে। যেসব রুটে চাপ বেশি, সেই সব রুটের ট্রেনের টিকিট শুরুতেই শেষ হয়েছে। আগামীকাল (আজ) ৮ এপ্রিল দেওয়া হবে ১৮ এপ্রিলের টিকিট। এরপর ৯ এপ্রিল ১৯ এপ্রিলের, ১০ এপ্রিল ২০ এপ্রিলের এবং ১১ এপ্রিল বিক্রি হবে ২১ এপ্রিলের ঈদযাত্রার টিকিট।

প্রথমবারের মতো ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে কোনো ভিড় ছিল না। ছিল না টিকিটের জন্য হয়রানি, ঝক্কি-ঝামেলা। অথচ প্রতিবার ঈদ এলেই এ স্টেশনেই টিকিট কেনার জন্য রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত হাজারো টিকিটপ্রত্যাশী। এবার রেলের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির কারণে কমলাপুর স্টেশনে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।

রেলের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনলাইনে সব টিকিট দেওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমে গেছে। এখন আর কাউকে স্টেশনে এসে রাত জেগে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। আমাদের পরিশ্রমও অনেক কমে গেছে।’

এদিকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনে কাউন্টারে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। কাউন্টারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ১৬-২১ এপ্রিলের আগাম টিকিট। গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলীর বাস কাউন্টারে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ান অনেকেই। তাদের কেউ কেউ পছন্দের তারিখের টিকিট পেয়েছেন, কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে অন্য তারিখের টিকিট কেটেছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২২ এপ্রিল পালিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে সরকারি ছুটি। এ ছাড়া ১৯ এপ্রিল পবিত্র শবেকদরের সরকারি ছুটি। ১৯-২১ এপ্রিলের বাসের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকবে বলে মনে করছেন কাউন্টারের কর্মচারীরা। তাই ১৬ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে পছন্দের দিনে না পেয়ে অন্যদিনের টিকিট কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। এ ছাড়া টিকিটপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা বেশি নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

টিকিট কিনতে আসা মো. রাকিব বলেন, কাউন্টারে পছন্দের দিনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত সেই টিকিটগুলো পরে বেশি দামে বিক্রি করা হবে। তাই বাধ্য হয়ে অন্য তারিখের টিকিট কিনতে হচ্ছে। তা ছাড়া ঈদের জন্য টিকিট কিনতে ১০০-২০০ টাকার মতো বেশি লাগছে।

গাবতলীতে হানিফ কাউন্টারে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা মো. জাবেদ হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যবারের তুলনায় এবার কাউন্টারগুলোতে ভিড় কম। আর আজ (গতকাল) প্রথম দিন তাই সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না।’

অন্যদিকে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ চালু করবে বিআরটিসি, চলবে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। ৯ এপ্রিল থেকে মিলবে অগ্রিম টিকিট।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, ঈদের অগ্রিম টিকিট মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ (চাষাঢ়া) বাস ডিপো থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে জরুরি সেবার জন্য ঢাকার বিভিন্ন ডিপো ও টার্মিনালে ৬০টি বাস রাখা হবে। এসব বাস সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, মিরপুর ১২ নম্বরে মিরপুর বাস ডিপো, কল্যাণপুর বাস ডিপোর সামনে, নবীনগর, মতিঝিল বাস ডিপোর সামনে, মহাখালী বাস টার্মিনাল, জোয়ারসাহারা বাস ডিপো, গাজীপুর চৌরাস্তা, মোহাম্মদপুর বাস ডিপো, হেমায়েতপুর ও চন্দ্রা বাস টার্মিনালে থাকবে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন সিস্টেমে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে একদিকে ভোগান্তি কমেছে। কিন্তু রেল কর্র্তৃপক্ষ আরও আগে থেকে এ পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো। কারণ হুটহাট নেওয়ায় অনেকের কাছে অজানা এই সিস্টেমে টিকিট কাটা। তার মধ্যে আবার যারা ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়, তারা টিকিট কাটতে সমস্যায় পড়বে। আর দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে গেল! সরকারের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি যেন কোনো কালোবাজারির কাছে অনলাইনের মাধ্যমে সব টিকিট না চলে যায়। আর বাসের যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেখানেও ভাড়া বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই যারা ভাড়া নৈরাজ্য করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’