ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই একের পর এক গড়ে উঠেছে করাতকল (স’মিল)। স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজারসহ আঞ্চলিক সড়কের পাশে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব করাতকল। অনেক সময় রাস্তার একাংশ দখল করে রাখা হচ্ছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। আবার ট্রাকে করে যখন গাছের গুঁড়ি নিয়ে আসা হয় তখন রাস্তায় যানজট লেগে যায়। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা গাছের গুঁড়ির কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা এসব করাতকলের অর্ধেকেরই কোনো লাইসেন্স নেই।
উপজেলা বন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ে প্রায় ৫২টি করাতকল রয়েছে, যার মধ্যে ২৬টির লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ২৬টির কোনো লাইসেন্স নেই। এসব অবৈধ করাতকল থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব করাতকলের বিরুদ্ধে উপজেলা বন বিভাগ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। কিন্তু কিছুদিন পর আবার এসব করাতকল চালু করা হয়েছে। অবৈধ এসব করাত কলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শ্রমিকরা। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন অফিসের পূর্ব পাশে একসঙ্গে তিন-চারটি করাতকল রয়েছে। পশ্চিম পাশেও রয়েছে একটি। এছাড়া কালামপুর, বাথুলি, বালিয়া চৌরাস্তা, রোয়াইল, শরীফবাগ, ধানতারা, সূয়াপুর বাজার, পৌরসভা, নান্দেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন করাতকল রয়েছে। কোনোরকম একটি ভাঙা টিনের ঘর তৈরি করে চালু করা হয়েছে করাতকল। কোনোটির ওপরে আবার ছাউনিও নেই।
কিছু এলাকায় করাতকল সংলগ্ন রাস্তার পাশে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখায় জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ দেপাশাই এলাকায় দক্ষিণ দেপাশাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে ৩/৪ টি করাতকল রয়েছে। এই কলগুলোর গােেছর গুঁড়ি অনেক সময় রাস্তায়ও দেখা যায়।
দক্ষিণ দেপাশাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আরা বলেন, ‘করাতকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে থাকাটা বিপজ্জনক। আমার স্কুলের পূর্ব পাশে কয়েকটি করাতকল আছে। এসব করাতকলের শব্দদূষণের ফলে স্কুলের কোমলমতি শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের পাশের একটি লাইসেন্সবিহীন করাতকলের মালিক নজরুল ইসলাম। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মুমিন বলেন, ‘ধামরাই উপজেলায় ৫২টির মতো করাতকল রয়েছে। তবে আমাদের কাছে ২৬টির লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আরও ৮টি করাতকল মালিকরা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু বাকি করাতকলের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’