সালিশে গৃহবধূকে বেত্রাঘাত পাথর নিক্ষেপ

হবিগঞ্জের চুনারাঘাটে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সালিশে এক গৃহবধূকে ৮২ বার বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপ করে নির্যাতন চালিয়েছে গ্রামের মাতবরেরা। গত সোমবার রাতে এই ঘটনার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান চুনারুঘাট থানার ওসি মো. রাশেদুল হক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হাফেজ নুরুল ইসলাম (৩০), বায়েজিদ হোসেন (৭০), আকবর আলী (৬৯) ও আতিক উল্লাহ (৫০)। অভিযোগকারী ও গ্রেপ্তার হওয়া চার ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, চুনারুঘাট উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, একই উপজেলার অন্য গ্রামের বাসিন্দা এক অটোরিকশাচালকের (২৭) সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ওই নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেন ওই অটোরিকশাচালক। এ নিয়ে গত সোমবার রাতে ওই গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বায়েজিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সালিশে হাফেজ নূরুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে ওই নারী পরকীয়ায় জড়িত রয়েছেন এবং শাস্তি হিসেবে ৮২টি বেত্রাঘাত ও ৮০টি পাথর নিক্ষেপ ও এক মাস বাড়ি থেকে বের না হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় আকবর আলী (৬৮) ওই নারীকে ৮২টি বেত্রাঘাত করেন এবং উপস্থিত অন্যরা  পাথর নিক্ষেপ করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে পড়ে যান। আহত নারী নিজ ঘরেই চিকিৎসা নেন।

এদিকে ওমান প্রবাসী স্বামী ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন। তিনি আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে গ্রামবাসী ওই প্রবাসীকে বাধা দেন।

নির্যাতিত ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে ওই অটোরিকশাচালক বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। সে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গোপনে ওই ব্যক্তি আমার ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে স্থানীয়দের কাছে প্রচার করছে তার সঙ্গে আমার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এভাবে তাকে সমাজে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তার স্বামী বৃহস্পতিবার  বাড়িতে এলে তাকেও ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছেন কতিপয় গ্রামবাসী।

ঘটনার পর থেকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ওই অটোরিকশাচালক এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।

চুনারুঘাট থানার পরিদর্শক রাশেদুল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই নারীকে বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপের সত্যতা পাওয়া গেছে। শুক্রবার মামলা করা হলে ওইদিনই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নিদের্শে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।