রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সমর্থকরা দলের ফান্ড সংগ্রহের জন্য বৈঠকে বসেছিলেন বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি।
ডিবি বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের এই বৈঠক। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইফতারকে উপলক্ষ করা হয়।
গত শুক্রবার রাতে ভাটারা থানা এলাকা থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাসহ আটজনকে আটক করে ডিবি। গতকাল শনিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জামায়াতের ওই নেতাকর্মীদের।
ডিবি জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে ডিএমপির ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ (৪৮) আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আবুল বাশার (৪০), কুমিল্লা জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ (৪৪), আনোয়ারুল হক (৬৩) জামায়াতের সমর্থক শিব্বির আহম্মদ (৬০), ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম (৬৯), ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহবুব আলী (৫৫) ও আবদুল হাকিম সরকার (৬৩)। তবে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মাহবুবুল হক সজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে তাদেরই ডাকা হয়েছে, যারা পাঁচ লাখ টাকার বেশি টাকা দিতে পারবেন।’ তিনি জানান, সেলিম উদ্দিনকে পাঁচ দিনের ও অন্যদের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সেলিমের বিরুদ্ধে আরও ১৪টি মামলা রয়েছে।
এডিসি সজীব আরও বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর মালিবাগে পুলিশের ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এই সেলিম উদ্দিন।
গতকাল ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ডিবির করা মামলায় বলা হয়েছে, দলীয় নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি হয় এবং প্রকাশ্যে কোনো স্থানে কোনো ধরনের মিছিল-মিটিং করতে না পারায় কৌশল অবলম্বন করেন তারা। কিছু জামায়াত নেতাকর্মীর আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছোট ছোট ভাগে আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে সরকারকে উৎখাতসহ প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতি, জননিরাপত্তা বিঘিœতকরণ, জনসাধারণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার, সরকারি স্থাপনা ও যানবাহনে নাশকতামূলক কার্যকলাপ ও ত্রাস সৃষ্টির জন্য বৈঠকটি ডাকা হয়। সেখান থেকে ২০-২৫ জন পালিয়ে গেছেন।