৫২% কিশোর-কিশোরী ভুগছে স্বাস্থ্যগত সমস্যায়

দেশের ৫২ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জীবনযাপন মান খারাপÑ এমন তথ্য উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায়। সেখানে বলা হয়েছে, এই ৫২ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর জীবনযাত্রার মান অনেক খারাপ। বাকি ৪৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক।

কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়, যেসব কিশোর-কিশোরীর বয়স বেশি, যাদের ভাই-বোন বেশি, যাদের বাড়িতে খাদ্য নিরাপত্তা কম, যারা বিষণœতা, উদ্বিগ্নতা এবং মানসিক চাপে ভুগছেÑ এমন কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জীবনযাত্রার মান খারাপ ছিল। অন্যদিকে, যেসব কিশোর-কিশোরীর প্রতি সন্তান ভালো আচরণ করেন, যাদের মানসিক অবস্থা ভালোÑ তাদের জীবনযাত্রার মান ভালো ছিল ও তারা সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম। গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ৫২ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জীবনযাত্রার মান খারাপ থাকা অবশ্যই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নকল্পের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অবশ্যই কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত-জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘কৈশোরকালীন জীবনমান’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক। অনুষ্ঠানে পাঁচটি গবেষণার ফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মারুফ হক খান ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার অসংক্রামক রোগ ও ঝুঁকিসমূহ’ শীর্ষক গবেষণায় বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে উচ্চ লবণাক্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ৬১ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং ৪০ শতাংশের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত শর্করা রয়েছে।

‘যেমন খাদ্য, তেমন স্বাস্থ্য’ শীর্ষক গবেষণায় সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, পাউরুটি, কোমলপানীয়, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই এবং আচারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন উপাদান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত লবণ, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, লেড, ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

‘চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষায় বিষয় বাছাইয়ের প্রবণতা ও প্রভাবিত হওয়ার কারণসমূহ’ শীর্ষক গবেষণায় সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল জানান, বিএসএমএমইউতে ২০১৬ সাল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের হার ক্রমেই বাড়ছে এবং ২০২০ সালে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের অনুপাত প্রায় সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার বিষয় বাছাইয়ে নারী-পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের জেন্ডার অনুযায়ী বিষয় বাছাইয়ের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক চিকিৎসক তৈরি করতে হবে এবং নারী-পুরুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজের সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন ‘কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক গবেষণায় বলেন, দেশের জনসংখ্যার ২২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। বিভিন্ন অঞ্চলে যারা স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছে তাদের বেশির ভাগ কিশোরী। কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো জেন্ডার সংবেদনশীল হয়েছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের গুণগতমান এবং স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য এখন কেন্দ্রগুলোকে জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাপ্রোচে কাজ করতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।