টানা কয়েক দিন ধরে দেশের বেশির ভাগ জেলায় মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। গতকালও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। জেলাটিতে এক সপ্তাহ ধরেই তাপমাত্রা ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢাকাসহ দেশের ৪৯টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় এখন গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এমন পরিস্থিতি আরও চার থেকে পাঁচ দিন থাকতে পারে।
এদিকে পানিশূন্যতাসহ দাবদাহের কারণে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই। গরমের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তীব্র গরমে আমচাষিরাও গুটি ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এপ্রিলে এমনিতে উষ্ণতা বেড়ে যায়। তা ছাড়া আমরা এখন সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করছি। অন্যদিকে বৃষ্টি নেই। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। যেহেতু আগামী চার-পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, ফলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ফরিদপুরে ৩৮.৫, রাজশাহীতে ৩৮.১, যশোর ও ঈশ্বরদীতে ৩৮.০, ঢাকায় ৩৭.৭, বান্দনবান ও মোংলায় ৩৭.৬, ফেনী, চাঁদপুর ও রাঙ্গামাটিতে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগের ১৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৮টি, খুলনা বিভাগের ১০টি, বরিশাল বিভাগের ৬টি ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলাসহ মোট ৪৮টি জেলা এবং মৌলভীবাজার জেলাসহ মোট ৪৯টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া পরবর্তী তিন দিনের আবহাওয়া উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী দুই দিন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে দাবদাহে, বিশেষ করে রোজাদার, শিশু ও অসুস্থ মানুষদের বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বয়স্ক ও শিশুরা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে যত্ন নিতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গরমের সময় শরীরে পানিশূন্যতা বেশি তৈরি হয়। এ কারণে সবাই যেন বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবারটা বেশি পরিমাণে খায় সে ব্যাপারটা নিশ্চত হতে হবে। বাইরে যাওয়ার সময় সুতির কাপড় পরিধান করবে। কেউ যদি গরমে অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে দ্রুত তাকে ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে, ওরস্যালাইন বা শরবতজাতীয় খাবার দিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ছাড়া যারা সারা দিন রোজা রাখেন, তাদের ইফতারে মসলাদার ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
তীব্র গরমে মাঠের ফসলের খুব বেশি ক্ষতি না হলেও আমচাষিরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। রোদের তীব্রতা বাড়লে আমবাগান থেকে গুটি আম ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাপমাত্রার পরিস্থিতি এমন থাকলে আমচাষিরা ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। যেহেতু বৃষ্টিপাত নেই, ফলে গাছের গোড়ায় যেন রস থাকে সে জন্য সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে গাছেও দিনে দুইবার পানি স্প্রে করতে হবে। না হলে আমের গুটি সব ঝরে যাবে। ফলন কম হবে।