মির্জা ফখরুলের প্রশ্ন

সরকারি কর্মচারীকে এভাবে তুলে নেওয়া হলো কোন আইনে

নওগাঁয় আটকের পর র‌্যাব হেফাজতে ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু নির্যাতনের কারণেই হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সুলতানা জেসমিনকে তুলে নেওয়া এবং নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একজন নাগরিক এবং সরকারি কর্মচারী, তাকে এভাবে তুলে নেওয়া ভয়াবহ আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন। তাকে তুলে নেওয়া হলো কোন আইনে?’ গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনকে হত্যার প্রতিবাদ’ শীর্ষক মহিলা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন যুগ্ম সচিবের কথায় তাকে (সুলতানা জেসমিন) রাস্তার মধ্য থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। এটি প্রমাণ করে ক্ষমতাসীনরা হত্যা করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

গত শনিবার সারা দেশে থানাপর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচির বেশির ভাগ জায়গায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাদের গ্রেপ্তার ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচিতে আক্রমণ করে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপি এখন পর্যন্ত সব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছে। এর পরও রাস্তায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির ১৭ জন প্রাণ দিয়েছে। ৬০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না? সরকার কি রাষ্ট্র? সরকার কি গড? গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে আমি অবশ্যই আমার কথা বলব। আমরা একমত না হতে পারি, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও দুটি ধারা বাতিলের কথা বলেছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বাতিল করা হবে না। মানুষের কথা বলার অধিকার বন্ধ করে দিতেই তারা তা বাতিল করবে না।’

এছাড়া গতকাল বিকেলে রাজধানীর ঈসা খাঁ হোটেলে রাজনীতিক, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের সম্মানে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশকে রক্ষার জন্য, মানুষের অধিকার রক্ষা, ভাতের অধিকার রক্ষার জন্য আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি সে জন্য আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী থানা বিএনপির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার পূর্ব আলোচনা সভা হয়। এতে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।