সিটি করপোরেশন নির্বাচনের যে তফসিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষণা করেছে তাকে সরকারের ট্র্যাপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এবার জনগণ সরকারের কোনো ট্র্যাপে পা দেবে না। বিএনপিও কোনো ট্র্যাপে পা দেবে না। আমাদের দাবি একটাই, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না।’
গতকাল সোমবার রামপুরায় ডেল্টা হেলথ কেয়ারে চিকিৎসাধীন নাটোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। এ কারণেই আওয়ামী লীগ মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, কর্মসূচিকে বন্ধ করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু জনগণ তা হতে দেবে না।’
তিনি বলেন, ‘নাটোরে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালনে আমাদের নেতাকর্মীরা যখন আসছিল, তখন আওয়ামী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ পুলিশের ছত্রছায়ায় আক্রমণ করে। সেখানে নাটোর সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের ওপর আক্রমণ করে তারা। তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। জেলা কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগেও আপনারা দেখেছেন, সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ তার নেতাকর্মীর ওপর কীভাবে অতর্কিত হামলা করেছিল সন্ত্রাসীরা। এভাবে তারা নাটোরে সন্ত্রাসের রাজত্ব করছে। শুধু নাটোরই নয়, আজকে সারা দেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব বিরাজ করছে।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে আমাদের যারা মন্ত্রী আছেন; তারা মুখে একটা বলেন, কাজে করেন উল্টো। যখন আমরা সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে যাব, তখন তারা হত্যা-নির্যাতন করবে, বলপ্রয়োগ করে ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। এটা কখনো দেশের মানুষ মেনে নেয়নি, মেনে নেবে না।’
‘ডয়েচে ভেলেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া নাফিজ আলমের গ্রেপ্তার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখানে যারা কথা বলছে, তাকেই তারা মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এটা শুধু র্যাব নয়, মূলত এর দায়-দায়িত্ব সরকারের। র্যাব হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ, সরকার যেভাবে বলছে সেভাবে কাজ করছে, র্যাবকে তারা ব্যবহার করছে। এখানে মূল দায়িত্বটা এসে পড়ে সরকারের ওপর।’