মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অস্বীকৃত ও অমূল্যায়িত গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ যোগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গৃহস্থালি কাজটা এমন মেয়েদের যাদের ছুটি নেই, বেতন নেই, বোনাস নেই, বিশ্রাম নেই।
গতকাল মঙ্গলবার অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
এর আগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। পরে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে ঘরের কাজ বা গৃহস্থালি কাজের অবদান স্বীকার করতে হবে। নারীদের কাজের অবদান নির্ণয়ের জন্য বিআইডিএসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটা করা গেলে আমাদের জিডিপি আরও বাড়বে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে হবে না। কিন্তু তারপরের বাজেট থেকে নারীদের অবদান হিসাব করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব ধরা হবে।
বর্তমানে রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ায় উল্লসিত না হয়ে সতর্ক হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রোজা ও ঈদের কারণে এখন রেমিট্যান্স বেড়েছে। তবে আগামীতে এ ধারা থাকবে না। পরে কোরবানির ঈদে হয়তো আবারও বাড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরে আর সড়ক হবে না, উড়াল সড়ক হবে। তবে আধা হাওরে (অর্ধেক পানি, অর্ধেক স্থল) সড়ক হতে হবে। পানির চাপে সড়ক ভেঙে যায়। যেখানে পানির চাপ বেশি সেখানে কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সøুইস গেট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে মন্ত্রী জানান।
প্রকল্পে বেশি পরামর্শক না নেওয়ার অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে অনুমোদন দেওয়া একটি প্রকল্পে একজনের বেশি পরামর্শক না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা দ্রুত কাজে লাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারিগরি শিক্ষায় বিভিন্ন শিশু পল্লীর এতিম শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন তিনি।