ইউক্রেনের ভেতরে তৎপর পশ্চিমা বিশেষ বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতি গোপনীয় নথি ফাঁস হয়েছে। বার্তা পাঠানোর অ্যাপ ডিসকর্ডে গোপন নথির ছবি গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেখা যাচ্ছে। সময়ের ধারাবাহিকতা ধরে এবং কয়েক ডজন সংক্ষিপ্ত সামরিক নাম দিয়ে সম্পন্ন করা এসব নথির কোনো কোনোটির ওপর ‘টপ সিক্রেট’ বা ‘অতি গোপনীয়’ চিহ্নিত রয়েছে। বেরিয়ে আসা নথিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাড়া ফেলছে ইউক্রেন যুদ্ধবিষয়ক তথ্যগুলো। এসব নথিতে ইউক্রেন যুদ্ধের বিশদ বর্ণনাও পাওয়া গেছে। সেসব থেকেই জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেনীয় সেনারা ছাড়াও তৎপর আছে পশ্চিমাদের বিশেষ বাহিনী।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ মার্চের একটি নথিতে ইউক্রেনের ভেতরে কর্মরত অল্পসংখ্যক পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। তবে তাদের কার্যকলাপ বা অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। নথি অনুযায়ী, ইউক্রেনে বিশেষ বাহিনীগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের রয়েছে ৫০ সদস্যের সর্ববৃহৎ দলটি। এরপর লাটভিয়ার ১৭, ফ্রান্সের ১৫, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জনের বিশেষ টিম আছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের আছে একজন। তবে পশ্চিমা মিত্রদের এ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের কোথায় কী কাজ করছে, তার উল্লেখ নেই ওই নথিতে।

ইউক্রেনে অন্য দেশের বিশেষ সেনা থাকার এসব তথ্য মস্কোর দাবিকে আরও জোরালো করল। রাশিয়া বহুদিন থেকেই বলে আসছে, ইউক্রেনে তারা শুধু কিয়েভ বাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, ন্যাটোর বিরুদ্ধেও লড়ছে।

ইউক্রেনে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ফাঁস হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মঙ্গলবার এক টুইটে তারা বলেছে, ‘কথিত গোপন তথ্য ফাঁস প্রমাণ করেছে, এতে গুরুতর মাত্রায় ভুল রয়েছে। পাঠকদের ভুল তথ্য ছড়ানো ও কথিত অভিযোগগুলো গ্রহণ করার বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।’

ইউক্রেনের কিছু কর্মকর্তা ফাঁস হওয়া নথির কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন যে, এগুলো রাশিয়ার বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ হতে পারে। তবে এখানে হতাশা এবং ক্ষোভও লক্ষ করা গেছে। প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা, মাইখাইলো পোডোলিয়াক এক টুইটে বলেছেন, “আমাদের ‘ফাঁস’ হওয়া নথি সম্পর্কে কম চিন্তাভাবনা করা উচিত এবং যুদ্ধ ভালোভাবে শেষ করার জন্য আরও বেশি দূরপাল্লার অস্ত্রের প্রয়োজন।”

যদিও পেন্টাগন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, নথিগুলো হয়তো আসল। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধসহ স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছিল জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের উইকিলিকস।

বিবিসি জানায়, পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া অন্যান্য নথি ইউক্রেনের নতুন এক ডজন ব্রিগেড যারা সপ্তাহখানেকের মধ্যে আক্রমণ শুরু করবে তাদের প্রস্তুতি কখন শেষ হবে সে সম্পর্কেও ধারণা দিচ্ছে। তারা বিস্তারিত বর্ণনা সহকারে এই তালিকা তৈরি করেছে যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের দেওয়া ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান। একটি মানচিত্রে একটি টাইমলাইন রয়েছে যা বসন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেন জুড়ে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিককার একটি নথিতে আসন্ন পাল্টা আক্রমণের সময় ইউক্রেনের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত বাহিনী গোছানো এবং টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে থাকা সমস্যা সত্ত্বেও ‘পরিমিত মাত্রায় ভূমি দখলে’ আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সমস্যাগুলোও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট হতে পারে। হতাহতের সংখ্যাও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার রাশিয়ার সৈন্য নিহত বা আহত হয়েছে এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ইউক্রেনীয় হতাহত হয়েছে।