কুমিল্লায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষ আহত ২৫

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনে একই লাইনে উঠে যাওয়া একটি মালবাহী ট্রেন ও যাত্রীবাহী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গতকাল রাত দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ৭টি বগি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, হাসানপুর স্টেশনে মালবাহী একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী সোনার বাংলা ট্রেন মালবাহী ওই ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই দুর্ঘটনার পর আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। দুই ঘণ্টা পরে লাকসাম ও ফেনী থেকে উদ্ধারকর্মীরা এসে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালান। দুর্ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আর ঘটনার পর থেকে হাসানপুর স্টেশনের স্টেশনমাস্টারসহ সংশ্লিষ্টরা পলাতক ছিলেন।

দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনের যাত্রী জামাল হোসেন বলেন, তার বাড়ি জামালপুরে। বাড়িতে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ওঠেন। হঠাৎ ট্রেনটি অনেক কাঁপাতে থাকে, পরে বিকট শব্দ করে থেমে যায়। দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে আহত যাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।

ট্রেনে দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশের সদস্য আবসার বলেন, ‘ট্রেনের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় পড়ে নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। কোনোভাবে ট্রেন থেকে নেমে পাশের ফার্মেসিতে গিয়ে চিকিৎসা নিই। কেউ মারা গেছে কি না, আমার জানা নেই।’

স্থানীয় হাসানপুর বাজারের ব্যবসায়ী বাঁচা মিয়া বলেন, ‘আমরা ইফতার করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। দ্রুত বাইরে গিয়ে দেখি ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে।’

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি। আহত হয়েছে অনেক। তবে কেউ মারা যায়নি।’

তদন্তে রেলের ৪ সদস্যের কমিটি : মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ। এ কমিটিকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রেলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ট্রাফিক কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের পর বলা যাবে। এখনো কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। তবে একটি ট্রেন অপরটিকে ধাক্কা দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’