বঙ্গবাজার, নিউ মার্কেটসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্নস্থানে অগ্নিকা-ের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অগ্নিসন্ত্রাসের হোতা, জন্মদাতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমরা কখনোই অগ্নিসন্ত্রাস করিনি। এই সন্ত্রাস তো আওয়ামী লীগের জিনের মধ্যে, জিনে আছে। আমি বারবার একটা কথা বলি যে, তাদের দুটো ব্যাপার-একটা সন্ত্রাস ও আরেকটি দুর্নীতি। এটা ওদের বডি কেমিস্ট্রিতে আছে।’ গতকাল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরকম অভিযোগের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতি থেকে আওয়ামী লীগ বের হতে পারবে না। যখন ক্ষমতা পায় তখন সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, সব কিছু লুট করে নিয়ে যাওয়া এবং বর্গিদের সঙ্গে আমি তুলনা করেছি.. বর্গিরা যেমন আসে লুট করে নিয়ে চলে যায় তেমন ওরা ক্ষমতায় এসে লুট করে নিয়ে চলে যায়.. এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের আগুন লাগার ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিউ মার্কেটে অগ্নিকা-ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছেই না। ফায়ার ব্রিগেডও বলছে, এটা শট সার্কিটে হতে পারে। সবগুলোতে খেয়াল করে দেখবেন। এখানে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা কথা বলার আগেই তথাকথিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে দিলেন এটাতে বিএনপি জড়িত আছে কি না দেখতে হবে। এখন আবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপি। আরে অগ্নিসন্ত্রাসের মূলহোতা আওয়ামী লীগ।’
‘বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে’- আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে তো আমরা যাই না। তারা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে আমি গিয়েছি। প্রত্যেকবার, যতবার আমরা গিয়েছি, তাদের আমন্ত্রণে গিয়েছি। আমাদের চেয়ে একশ ভাগ বেশি আওয়ামী লীগ গিয়েছে, এখনো যাচ্ছে। আমাদের আগে ওবায়দুল কাদের তার দলের নেতাদের নিয়ে মার্কিন দূতাবাসে বৈঠক করেছেন। তারাই ধরনা দিচ্ছেন। কোটি কোটি ডলার দিয়ে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন, যাতে নির্বাচনে তাদের প্রতিপক্ষ কেউ না থাকে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো যাতে নির্বাচন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সামনে একটাই পথ। সেটা হলো বিদেশিদের কাছে ধরনা না দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে সংসদ থেকে পদত্যাগ করা। সংসদ বিলুপ্ত করা এবং একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হন্তান্তর করে নতুন নির্বাচন কমিশন করে নির্বাচন করা এটা মেনে নেওয়া।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তারা আসন্ন যে নির্বাচন হওয়ার কথা সেই নির্বাচনের পূর্বেই বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনা মধ্যে আছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাদেরকে আটকে রাখা। আর জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মতন তিন বারের সংসদ সদস্য, নিজ এলাকায় জনপ্রিয় নেতাদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাদেরকে আটকিয়ে রাখা। এ প্রক্রিয়া তারা ইতিমধ্যে শুরু করেছে।’
গত সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভাপতির সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন ও সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন মির্জা ফখরুল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।