সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে একটি রিসোর্টে পর্যটক আলে ইমরান (৩২) হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। ইমরানকে হত্যার আগে হোটেল কক্ষের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে রাখা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলে ইমরানের স্ত্রী খুশনাহার (২১) ও তার কথিত প্রেমিক মাহিদুল হাসান মাহিন (২৪), নারায়ণগঞ্জের নাদিম আহমেদ নাঈম (১৯) এবং কিশোরগঞ্জের রাকিব (২০)।
এসপি মামুন জানান, গত সোমবার বিকেলে জাফলংয়ের বল্লাঘাটে রিভারভিউ রিসোর্টের পাশে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ পাথরচাপা অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ। এরপর জানা যায়, ওই লাশ পর্যটক আলে ইমরানের। তিনি কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার গুরই গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা পরিচালিত আলাদা দুটি অভিযানে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা নাদিম আহমেদ নাঈমকে নিজ বাড়ি, ইমরানের স্ত্রী খুশনাহারকে ঢাকা এবং রাকিবকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আলে ইমরানের স্ত্রী খুশনাহারের সঙ্গে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মাহিদুল হাসান মাহিনের দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই বছর ধরে প্রেম চলছে। মাহিন ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জিএম পদে কর্মরত। ইমরানের সঙ্গে প্রায় ৫ বছর আগে খুশনাহারের বিয়ে হয়। প্রেমে জড়ানোর পর থেকেই খুশনাহার ও মাহিন বিভিন্ন সময় ইমরানকে হত্যা করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যা করার উদ্দেশ্যে খুশনাহার তার স্বামীকে নিয়ে বেড়ানোর কথা বলে গত ১৫ এপ্রিল রাতে ভৈরব থেকে ট্রেনযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। একই দিনে মাহিন তার অফিসে কর্মরত নাদিম এবং অপর পলাতক সহযোগীকে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। গত ১৬ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টা থেকে আলে ইমরান ও খুশনাহার রিভারভিউ রিসোর্ট অ্যান্ড আবাসিক হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন এবং অন্য তিন আসামি বল্লাঘাটের হোটেল শাহ আমিনে অবস্থান করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী খুশনাহার হত্যাকা-ের আগে কৌশলে তাদের হোটেল কক্ষের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে মাথাব্যথার ওষুধের কথা বলে রাত ১০টার দিকে ইমরানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ইমরান ঘুমিয়ে গেলে মাহিনকে রিভারভিউ রিসোর্টে আসতে বলেন খুশনাহার। রাত আনুমানিক ১২টায় মাহিন তার দুই সহযোগীকে নিয়ে রিসোর্টের ১০১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে রাত ২টায় খুশনাহার ও মাহিন গলায় গামছা পেঁচিয়ে আলে ইমরানকে হত্যা করেন। এ সময় ইমরানের পা চেপে ধরেন নাদিম এবং পলাতক অপর সহযোগী রুমের বাইরে পাহারা দেন। ইমরানের মৃত্যু নিশ্চিত হলে আনুমানিক রাত ৩টায় লাশ লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে হোটেলের পাশে পাথরচাপা দিয়ে রাখেন মাহিন ও তার দুই সহযোগী। পরে হোটেল থেকে রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টায় বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যান তারা।