ক্ষমতার লড়াইয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে সুদানে বসবাসরত দেড় হাজারের মতো বাংলাদেশির কথা বিবেচনা করে দেশটিতে মিশন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও, ওয়াশিংটন ও লন্ডন সফর সামনে রেখে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান। এর আগে গত শনিবার বাংলাদেশিদের সুদান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে সতর্কতা জারি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ১৫০০ মতো বাঙালি আছে বলে শুনেছি সেখানে। আমাদের ছোট্ট একটি কনসাল জেনারেল অফিস আছে, মিশন আছে। আমরা প্রথমত অ্যাডভাইস করেছি, এখন কেউ যাবেন না সুদান। আমাদের পূর্ব সতর্কতা নেওয়া দরকার। কারণ ওখানের অবস্থা স্থিতিশীল না।
তিনি বলেন, আর আমরা আমাদের মিশনের লোকদের সতর্কতা নিতে বলেছি, তারা যাতে ঝামেলায় না থাকে। তবে, যেহেতু আমাদের বহু নাগরিক সেখানে আছে, সুতরাং আমাদের মিশন ওখানে থাকবে। কারণ, আমাদের জনগণের জন্য সেবা দিতে হবে।
গত ১৫ এপ্রিল শনিবার থেকে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির প্রভাবশালী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) তুমুল লড়াই শুরু হয়। লড়াই শুরু হওয়ার পর মানবিক সংকট দেখা দেয়। এ পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে; লাখ লাখ সুদানি নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সুদানের অবস্থা ‘বিবেচনা করে’পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিশনে কর্মরতদের ‘অনেক দায়দায়িত্ব’দেওয়া হয়েছে এবং সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
অন্যান্য দেশ সুদান পরিস্থিতিতে কী রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে সেদেশগুলোর সঙ্গে ‘কথাবার্তা’ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মোমেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন যে, আমাদের অফিসারদের সরিয়ে আনার জন্য। আমরা বলেছি যে, আমার নাগরিক যখন থাকবে সেদেশে, আমাদের অফিসও থাকা উচিত। আমাদের নাগরিক যারা আছে, কারও যদি বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে আমরা দিতে পারব।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও চীনের নাগরিকদের আকাশ পথে সুদান থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।