কথিত কাতারগেট কেলেঙ্কারি

গত ডিসেম্বরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের কয়েকটি ফ্ল্যাট থেকে ১.৫ মিলিয়ন ইউরোভর্তি বেশ কয়েকটি স্যুটকেস জব্দ হয়। এই দুর্নীতির সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক ও বর্তমান চার এমইপির বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। কাতারগেট কেলেঙ্কারি নামের এই দুর্নীতি ইইউকে কলঙ্কিত করেছে। লিখেছেন নাসরিন শওকত

কাতারগেট কেলেঙ্কারি

কাতারগেট একটি চলমান রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি। এর অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কর্মকর্তা, লবিস্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কাতার, মরক্কো ও মৌরিতানিয়া সরকারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বেলজিয়াম, ইতালি ও গ্রিসের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নগদ ১.৫ মিলিয়ন ইউরো জব্দ করে, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কথিত এই অপরাধের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক ও তৎকালীন চার সন্দেহভাজন সদস্যকে (এমইপি) অভিযুক্তও করেছে তারা। এদের মধ্যে প্রধান দুই অভিযুক্ত হলেনÑ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গ্রিসের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ইভা কাইলি ও উত্তর-পশ্চিম ইতালির সাবেক এমইপি পিয়েরে আন্তোনিও পাঞ্জেরি। এর সঙ্গে আরও রয়েছেন সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য ও ইভা কাইলির সঙ্গী ফ্রানচেসকো জর্জি এবং এনজিও ‘নো পিস উইদাউট জাস্টিস’-এর সাধারণ সম্পাদক নিক্কোলো ফিগা তালামানকা।

এটি সেই দুর্নীতির কেলেঙ্কারি যা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) কলঙ্কিত করেছে। ইউরোপজুড়ে বিতর্কের ঝড় তোলা এই কেলেঙ্কারিকে বর্তমানে ‘মরক্কোগেট’ও বলা হচ্ছে। হাই-ভোল্টেজ এই মামলার তদন্তকারী বিচারক হলেন অসাধারণ ট্র্যাক রেকর্ডের অধিকারী বেলজিয়ামের ম্যাজিস্ট্রেট মিশেল ক্লেস। তিনিই ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিধ্বংসী এই তদন্ত হঠাৎ করেই দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলায় বাঁক নিয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি একুশ শতকে প্রায় এক-চতুর্থাংশ সময়ের মধ্যে ইইউকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারি। কারণ এটি ৩১ দেশের ব্লকটির পুরো রাজনৈতিক যন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে চলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখ-তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিতর্কিত এই ঘটনার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রোবার্তা মেতসোলা সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘ইউরোপীয় গণতন্ত্র আজ আক্রমণের শিকার।’

যত অভিযোগ

সাবেক এমইপি ইভা কাইলি, পিয়েরে আন্তোনিও পাঞ্জেরি এবং মার্ক তারাবেল্লাÑ এই তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রিসের  হেলেনিক পার্লামেন্ট সদস্য ও ২০২২ সাল থেকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ইভা কাইলি। তার বিরুদ্ধে কাতার থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে বলা হচ্ছে, তিনি পার্লামেন্টের নীতিগুলোকে কাতারের পক্ষে প্রভাবিত করতে ও দেশটির বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধের জন্য এই ঘুষ নিয়েছেন। তবে ৪৪ বছর বয়সী সাবেক এই এমইপি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০২২ সালের ফিফা বিশ^কাপের অবকাঠামো নির্মাণের সময় কাতারের  শ্রম ও সামাজিক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন কাইলি। তিনি এমন এক সময়ে দেশটির মানবাধিকার রক্ষার পক্ষ নেন, যখন সেখানে বিশ^কাপ স্টেডিয়াম নির্মাণে বিতর্কিত ‘কাফালা শ্রম ব্যবস্থায়’ অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দোহার মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনা তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে। কাতারের পক্ষে বিভিন্ন ইস্যুতে ভোট দিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করায় কাইলি তার নিজ দল , ইউরোপীয় দেশসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

কাতারগেট দুর্নীতির তদন্তকারীদের বিশ^াস, ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে প্রভাবিত করার বিনিময়ে একটি অপরাধী চক্র কাতার ও মরক্কোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে। সাবেক এমইপি আন্তোনিও পাঞ্জেরির বিরুদ্ধে ওই অপরাধী চক্রকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে আন্তোনিও পাঞ্জেরির বিরুদ্ধে মরক্কো থেকে ঘুষ ও উপহার গ্রহণ এবং বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, তিনি ইইউ পার্লামেন্টের মাগরেব প্রতিনিধি থাকার সময় থেকেই মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পাঞ্জেরির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরই ইতালীয় পুলিশ তার স্ত্রী মারিয়া কুল্লিউনি ও তার মেয়ে সিলভিয়াকে গ্রেপ্তার করে। 

এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারি মার্ক তারাবেল্লাকে বেলজিয়াম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। তবে তারাবেল্লা কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

এই এমইপিদের একজন ৬০ বছর বয়সী সাবেক এমইপি আন্দ্রেয়া কোজ্জোলিনো। গত জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দক্ষিণ ইতালির ডেমোক্রেটিক পার্টির এমইপি কোজ্জোলিনোকে ‘টাকার বিনিময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় কাজ করছেন’ বলে সন্দেহ করা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ইতালি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও কোজ্জোলিনো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের শহর নাপলসে গৃহবন্দি রয়েছেন।

এদিকে ইভার সঙ্গী ফ্রানচেসকো জর্জির বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তিনি সাবেক এমইপি আন্তোনিও পাঞ্জেরির সঙ্গে মিলে ফাইট ইম্পিউনিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কাতার ও মরক্কোর বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে প্রভাবিত করতেন। সেই সঙ্গে এই দুই দেশ থেকে আসা অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করতেন। জর্জি এনজিও ফাইট ইম্পিউনিটির সহকারী প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেড ইউনিয়নের নেতা। তিনি ইতালির এমইপি আন্দ্রেয়া কুজ্জোলিনোরও উপদেষ্টা ছিলেন।

কাতারগেট কেলেঙ্কারির প্রধান দুই অভিযুক্ত দেশের একটি কাতার অন্যটি মরক্কো। দোহার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশটি ইউরোপের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের জন্য ইউরোপ ব্লকের রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক বা কৌশলগত অবস্থানে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের অর্থ বা মূল্যবান উপহার দিয়েছে। বিশেষ করে নিজেদের পক্ষে ইইউ নীতি সুরক্ষিত করতে এর পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভা কাইলিকে অর্থ ঘুষ হিসেবে দিয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় এই দেশটি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনাকে পাশ কাটাতে চায়। তবে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে কাতার। তবে বেলজিয়ামের বিচারমন্ত্রী ভিনসেন্ট ভ্যান কুইকেনবোর্ন মরক্কো বিরুদ্ধে করা তদন্তে ইইউ-মরক্কো বাণিজ্য চুক্তি এবং মৎস্য চুক্তিসহ একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। বলা হচ্ছে, মরক্কোর এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে পোল্যান্ডে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূত জড়িত রয়েছেন।

যে অভিযোগে গ্রেপ্তার

গত ডিসেম্বরের শুরুতে ব্রাসেলসে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যখন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদসহ ছয় এমইপিকে আটক করা হয়, ঠিক তখনই কাতারগেট কেলেঙ্কারি আলোচনায় উঠে আসে। একইসময়ে দোহার ফুটবল বিশ^কাপ আয়োজন করছিল। গত ১৫ ডিসেম্বর কাতারগেট তদন্তে কাইলির সঙ্গী ও তার সহকারী ফ্রানচেসকো জর্জি চাঞ্চল্যকর এক সাক্ষ্য দেন। যেখানে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তকে কাতারের পক্ষে প্রভাবিত করার জন্য দেশটির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। সেই সঙ্গে মরক্কো ও মৌরিতানিয়া সরকারের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার কথা জানান। তবে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার সঙ্গী ইভা কাইলির সরাসরি যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি এবং এর সঙ্গে পাঞ্জেরি, কোজ্জোলিনো ও তারাবেল্লার স্পষ্টভাবে জড়িত থাকার কথা বলেন। সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন যে, ২০১৯ সাল থেকে কাতার  আন্তোনিও পাঞ্জেরির কাছে কয়েক দফায় নগদ অর্থ পাঠিয়েছে। জর্জির মতে, কাতারের সঙ্গে মৌরিতানিয়া সরকারের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে আসা ওই অর্থ ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা ‘ফাইট ইম্পিউনিটি’ মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালির সাবেক এমইপির পাঞ্জেরি বেলজিয়ামের তদন্তকারীদের কাছে এক সাক্ষাৎকার দেন। ফাঁস হওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, এই কেলেঙ্কারিতে কাতার জড়িত হওয়ার আগে প্রথম নগদ অর্থ মরক্কো থেকে দেওয়া হয়েছিল।  এই সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত শুরু ২০২২-এর জুলাইয়ে। ফরাসি ও ডাচ পুলিশ বাহিনীর যৌথ এই ইউনিটের তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন মিশেল ক্লেস।

গ্রেপ্তার হলেন যেভাবে

২০২২ -এর ৯ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা।  বেলজিয়ামের পুলিশ ও ইইউ পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কথিত কাতারগেট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানী ব্রাসেলসের ১৯টি ভিন্ন ঠিকানায় ২০টি অভিযান চালায়। এসময় তারা ওই সন্দেহভাজনদের ব্রাসেলসের ইইউয়ের সদর দপ্তরের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে সিলগালা করে দেয়। এর পরের কয়েক ঘণ্টায় রাজধানীর আরো কয়েকটি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে এবং ইতালিজুড়ে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন সাবেক ও তৎকালীন আট এমইপিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন এমইপি ইভা কাইলি ও মার্ক তারাবেল্লা,যাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্ত কর্মকর্তারা। 

পরের কয়েক দিনে তারা বেলজিয়াম, ইতালি ও গ্রিসের কমপক্ষে ২০টি বাড়ি ও কার্যালয়ে অভিযান চালান। প্রথমে কাইলি ও তার সঙ্গী জর্জির অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ নগদ দেড় লাখ ইউরোর নোট পায়। এরপর সাবেক রাজনীতিবিদ পাঞ্জেরির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।  সেখান থেকে  পুলিশ প্রচুর পরিমাণে নগদ অর্থ উদ্ধার করে। একই সময়ে তদন্তকারীরা তার মানবাধিকার প্রচারণায় কাজ করা এনজিও ফাইট ইম্পিউনিটির কার্যালয়েও তল্লাশি চালায়। এই এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট পাঞ্জেরি। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, পাঞ্জেরির বাড়ি থেকে মোট ৬ লাখ ইউরো উদ্ধার করা হয়েছিল। এদিকে কাইলি ও তার সঙ্গী জর্জি এবং তার বাবার হোটেল রুম থেকে আরও অতিরিক্ত ইউরো পাওয়া যায়, মোট মিলিয়ে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১.৫ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট মিশেল ক্লেসের নেতৃত্বে পুলিশ  প্রথম কাইলির বাবা ও গ্রিসের সাবেক রাজনীতিবিদ আলেকজান্দ্রোসকে গ্রেপ্তার করে। এর ফলে কাইলি তার কূটনৈতিক রক্ষাকবচ হারান। ওইদিনই ইভা কাইলি ও পিয়েরে আন্তোনিও পাঞ্জেরিকে গ্রেপ্তার করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিশেল ক্লেস। পরদিন তাদের দুজনের সহকর্মী মার্ক তারাবেল্লার বাড়িতে তল্লাশি চালান তিনি । এছাড়াও ইভার সঙ্গী ফ্রানচেসকো জর্জিকেও গ্রেপ্তার করার পর যথাক্রমে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লুকা ভেসেন্তিনি, ফিগা-তালামানকা এবং ইতালীয় এমইপি আলেসান্দ্রা মোরেত্তির এক সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যর্পণ নিয়ে লড়াই

চাঞ্চল্যসৃষ্টি করা কাতারগেট কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত এই  চার এমইপির প্রত্যর্পণ নিয়ে বেলজিয়ামের তদন্তকারী ও ইতালীয় বিচারকদের মধ্যে রীতিমতো লড়াই চলছে। তদন্ত অব্যাহত থাকায় কাইলি ও জর্জি গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বেলজিয়ামের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তবে গত ১৪ এপ্রিল কারাগার থেকে ছাড়া পান  কাইলি এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ছাড়া পান জর্জি। তারা দুজনই (পায়ে নজরদারি ব্রেসলেট পরে) গৃহবন্দি রয়েছেন। এদিকে পাঞ্জেরি ফৌজদারি আইনের আওতায় প্রসিকিউটরের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন। হেফাজতে এক বছরের কম সাজার বিনিমিয়ে কাতারগেট দুর্নীতি সম্পর্কে সব কিছু প্রকাশ করার শর্তে সম্মত হন। এই চুক্তি অনুযায়ী, তার স্ত্রী ও মেয়ে অভিযোগ  থেকে মুক্তি   পেলেও পাঞ্জেরি গৃহবন্দি রয়েছেন। আর বেলজিয়ামের রাজনীতিবিদ মার্ক তারাবেল্লা এখন বেলজিয়ামের কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এদিকে গত ২৭ ডিসেম্বর  থেকে কারাগারে থাকা ফিগাকে কাতারগেট দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে গত ১১ এপ্রিল এমইপি কোজ্জোলিনোর সম্ভাব্য প্রত্যর্পণের বিষয়ে নেপলসের বিচারকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে তারা দুবার তাদের রায়ও স্থগিত করেন।