কৃষিঋণ বিতরণে এগিয়ে সরকারি ব্যাংক

বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যায় খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের মতো মধ্যম ও নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলো। এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশীয় খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোকেও কৃষিঋণ বিতরণে দেওয়া হয় নির্দেশনা। ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। তবে ঋণ বিতরণে বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলো।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ১০ হাজার ২৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা ৮ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে সরকারি ব্যাংকগুলো। অপরদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই খাতে ঋণ বিতরণও বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বিতরণ হয়েছে ২৪ হাজার ১২২ কোটি ৫৩ লাখ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের বছর এই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ২১ হাজার ৫০৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা সেই সময়ের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর সরকারের মালিকানায় থাকা ৮ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই ব্যাংকগুলো ১০ হাজার ২৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এটি লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১৪ হাজার ৯৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের আলোচিত নয় মাসে আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা বা লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ দশমিক ৭২ শতাংশ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক ৮৮০ কোটি, জনতা ব্যাংক ৫৭৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫৫১ কোটি ও রূপালী ব্যাংক ৩২৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

বর্তমানে কৃষি খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৫১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা; অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশই খেলাপি। চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এটি মোট ঋণের ৪৭ শতাংশ। আর অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা।