গাইবান্ধায় অটোরিকশা চালক রুবেল হোসেন (২২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তারপর তার অটোরিকশা ছিনতাই করে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো.কামাল হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০ এপ্রিল সাঘাটা উপজেলার বাদিনারপাড়া গ্রামের একটি ভুট্টার খেত থেকে রুবেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল একই উপজেলার পবনতাইড় গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। ওইদিন রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।
পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার জিরাবো এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সাঘাটা উপজেলার বাদিনারপাড়া গ্রামের দুই সহোদর ওবায়দুল ইসলাম (২৪) ও রুবেল মিয়া (২২) এবং বরিশাল জেলার গুয়াবাড়ীয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩২)।
গ্রেপ্তার ওবাইদুলের কাছ থেকে নিহত রুবেলের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে, চুরি যাওয়া অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হচ্ছেন, সাঘাটা উপজেলার বারকোনা গ্রামের সাজু মিয়া (৪০) ও রেজাউল করিম (৫০)।
পুলিশ জানায়, ওবাইদুল, রুবেল ও জসিম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, তারা ঘটনার দু'দিন আগে এলাকায় আসে এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা রুবেলের অটোরিকশা ভাড়া নেয়। অটোরিকশায় সাঘাটা বাজার থেকে নিজ বাড়ি বাদিনারপাড়া গ্রামের দিকে নিয়ে রওনা দেয়।
পথিমধ্যে নির্জন এলাকায় অটোরিকশা চালক রুবেলকে তার ব্যবহৃত চাদর গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে, মৃতদেহ পাশের ভুট্টা ফেলে রাখে। পরে তারা অটোরিকশাটি সাজু ও রেজাউলের কাছে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে ও তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নিয়ে রাতেই ঢাকায় ফিরে যায়।