এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে লুপের মাধ্যমে যুক্ত হবে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে। নগরীর লালখান বাজার মোড়ে আখতারজ্জামান ফ্লাইওভারের (বহদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার) সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (পতেঙ্গা থেকে লালখান বাজার) সংযোগ কী করে হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এই লুপ ২০২১ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল। পরিবেশবাদীদের চাপের কারণে তাতে বিলম্ব হচ্ছিল।
ইতিমধ্যে টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার মোড় পর্যন্ত পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। দুই বছর আগের নকশা অনুযায়ী বলা হয়েছিল টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত উভয় পাশে পাহাড় কাটা হবে না। চার লেনের পরিবর্তে দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা হবে এ কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে লালখান বাজার মোড়ে নেমে যাওয়া আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে তা যুক্ত হবে কীভাবে? এ নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে।
কৌতূহল দূর করতে কথা হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লালখান বাজার নয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত হবে ওয়াসা মোড়ে।’
ওয়াসা মোড়ে কেন? জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশ চওড়ায় কম। পাহাড় না কাটলে ওই অংশে চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে যাবে দুই লেনের।’
তাহলে বাকি দুই লেন কোথায় যাবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে জিইসি মোড় থেকে আগ্রাবাদের দিকে যেতে লুপের মাধ্যমে ওয়াসা মোড় থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে গাড়িগুলো সোজা চলে যাবে। তবে কোনো গাড়ি যদি লালখান বাজার মোড়ে নামতে চায়, সেগুলো বর্তমান ধারায় নামতে পারবে।’
অন্যদিকে আগ্রাবাদ প্রান্ত থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে এসে লালখান বাজার ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনে দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নেমে যাবে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোড় পার হয়ে যথারীতি কেউ চাইলে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে উঠতে পারবে বা নিচ দিয়েও চলে যেতে পারবে।’
কিন্তু আগ্রাবাদ প্রান্ত থেকে আসা গাড়িগুলো নামলে লালখান বাজার মোড়ে ব্লকেজ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করবেন জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এ জন্য লালখান বাজার মোড়ের হাইওয়ে প্লাজা মার্কেটটি অপসারণ করা হবে। অপসারণের জন্য ইতিমধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তখন লালখান বাজার মোড়ে আর যানজট থাকবে না।’
এতে লালখান বাজার মোড়ে রাস্তা পারাপারে ঝুঁকি বাড়বে। মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঝুঁকি কমাতে আমরা এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ করে দেব। মানুষজন ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতে পারবে।’
কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই আমরা প্রধান ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করব। র্যামগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।’
লুপ রোডের ডিজাইন সম্পর্কে জানা গেছে, ওয়াসা মোড়ে যে পয়েন্ট থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারটি লালখান বাজার মোড়ে নেমেছে, সেই পয়েন্ট থেকে দুই লেনের একটি ফ্লাইওভার লুপ প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে গিয়ে টাইগাস মোড়ের আগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ইতিমধ্যে ওয়াসা মোড়ে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ভূমি নিয়ে কাজ চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের।
৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালের ১১ জুলাই। বন্দর অংশে বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তি, আগ্রাবাদ বক্স কালভার্ট ও টাইগারপাসে রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমি জটিলতা ছিল; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল নগরীর টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত পাহাড়ের সৌন্দর্য রক্ষার আন্দোলন। অন্দোলনকারীদের যুক্তি হলো, এই অংশে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে পাহাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হবে।
পরে ৮ জুন ২০২১ সালে সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নতুন নকশা প্রণয়ন করে। চার লেনের পরিবর্তে এক্সপ্রেসওয়ে দুই লেনে নামিয়ে আনা হয়। তারপরও একটি অংশে কিছু পাহাড় কাটা হয়েছে। এ জন্য পাহাড়কে আবার ট্রিটমেন্ট (ড্রেসিং) করেও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হলে শাহ আমানত সেতু থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেডের এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় চলে আসবে। শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগ ছয় লেনের একটি রোড নির্মাণ করেছে। এতে সড়কে বিরতিহীনভাবে গাড়ি চলাচল করতে পারে। আর সেই রোড বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার দিয়ে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যুক্ত রয়েছে। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে সরাসরি চলে যাওয়া যাবে পতেঙ্গা সৈকত হয়ে টানেল দিয়ে নদীর ওপারে কিংবা ঢাকামুখী আউটার রিং রোডে যুক্ত হওয়া যাবে।