প্রত্যাহার হচ্ছেন পুলিশ কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে গ্রেপ্তার করাসহ নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তার প্রত্যাহারের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হলে তা অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হবেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডিআইজি মো. মাহবুব আলম। আজ রবিবার বদলির আদেশ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে পদোন্নতি পেয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি থেকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম। তিনি কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়ে মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলার উচ্ছেদ করে প্রশংসিত হন। ফলে গাজীপুরে যানজট কমে আসে অনেকাংশে। আবার কিছু উদ্যোগ নিয়ে সমালোচিত হন পুলিশ কমিশনার। বিশেষ করে মহানগর পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বেলুন বিস্ফোরণ হলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ সময় কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি ও পুলিশ কনস্টেবল জিল্লুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে রনি প্রায় মাসখানেক ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কনস্টেবল জিল্লুর রহমান অল্প কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের তৎকালীন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতে আলোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা হামলা করলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন মোল্ল্যা নজররুল। ওই সময় মাহি ও তার স্বামী ওমরাহ করতে সৌদি আরব ছিলেন। তা ছাড়া তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মাহি দেশে আসার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি সরকারের শীর্ষ মহলও নাখোশ হন এ ঘটনায়। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হন। গত ২৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকে মোল্ল্যা নজরুলকে প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। জাপান সফরে যাওয়ার আগের দিন রাতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রত্যাহার করতে সম্মতি দেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই কারণে মোল্ল্যা নজরুলকে প্রত্যাহার করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন লাগবে। প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও অনুমোদন দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীকাল (আজ) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, মোল্ল্যা নজরুল ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা। গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার হতে তিনি সরকারের শীর্ষ মহলে তদবির করেন। তাকে ওই স্থানে দিলেও তিনি প্রতিদান দিতে পারেননি। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে থাকাকালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মোল্ল্যা নজরুলকে এপিবিএনে বদলি করার প্রস্তাবও অনুমোদন হয়েছে। নয়া কমিশনার মাহবুব আলম ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা। পুলিশে তার সুনাম রয়েছে। এপিবিএনের আগে তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ছিলেন। তিনি পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। নির্বাচন কমিশন চাইলে মাহবুব আলম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই যোগ দেবেন আর না হয় নির্বাচনের পর তিনি গাজীপুরে যোগ দেবেন।