দেশের চার জেলায় পৃথক ঘটনায় অন্তত ৬ জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে রাজবাড়ীতে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘটনায় তিনজন এবং মুন্সীগঞ্জ ও দিনাজপুরে একজন করে খুন হয়েছেন। গত রবিবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে মিজানুর রহমান (৪৭) নামে এক স্কুলশিক্ষককে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মিজানুর রহমান ওই ইউনিয়নের বসাকুষ্টিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পাংশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হোসেনডাঙ্গা বাজারে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করতেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পাংশা থানায় নিহত মিজানুরের স্ত্রী শাহানারা বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জানা যায়, রবিবার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা ছিল। হালখাতা শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন মোটরসাইকেলে। পথিমধ্যে মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে গুলি করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে মিজানুরের সঙ্গে তার দুজন কর্মচারী ছিল।
পাংশা থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। আর ফোনে অনেককে হুমকি দিচ্ছে। সে বিষয়গুলোও আমরা খতিয়ে দেখছি।’
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জাকির মোল্লা (৪৫) নামে একজনকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির মোল্লা শাহাপুর গ্রামের আরব আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, হত্যাসহ নানা অপরাধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এদিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শান্তিডাঙ্গা গ্রামে সোমবার সকালে ছোট ভাইয়ের শিলের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, পানির মোটর চুরি করার অভিযোগে মাদকাসক্ত বড় ভাই রাশিদুলের মাথায় শিল দিয়ে আঘাত করেন ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে জেলার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকু-ি গ্রামে নুর সালাম (৩০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সে একই এলাকার শুকুর ম-লের ছেলে। গত রবিবার রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ভোরে দুর্বৃত্তরা তার গলা কেটে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে।
মুন্সীগঞ্জ : বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন টানাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ সদরের বজ্রযোগিনীতে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. ফজলুর রহমান বেপারী (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন নিহতের মেয়ে জামাই শ্যামল শেখ (৩৮)। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের কল্যানশিং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শ্যামল জানান, সম্প্রতি ঝড়ে প্রতিবেশী রাসেল বেপারীর বাড়ির বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। গতকাল দুপুরে তার শ্বশুরের বাড়ির ওপর দিয়ে ওই বৈদ্যুতিক তার টানতে যায় রাসেল ও তার লোকজন। এ সময় তার শ্বশুর বাধা দিলে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত ও শ্বশুরকে কিলঘুষি মারে। পরে শ্বশুরকে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরামপুরে ঘাসক্ষেত থেকে ওয়াহেদ মুন্সি (৮০) নামে এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভবানীপুর মুন্সিপাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়। নিহত ওয়াহেদ মুন্সি ওই এলাকার মৃত মনছের মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ ছিলেন। বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকান্ড। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’