বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিতে অব্যাহত পতন

২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। কিন্তু এই খাতের প্রবৃদ্ধিতে পতন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি গত ৯ মাসের কোনোটিতেই সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি ব্যাংক খাত। গত মার্চে এই খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে ঋণের চাহিদা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে। নতুন করে বিনিয়োগ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া ডলারের দাম বাড়ার কারণে বেশি ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে নভেম্বরে কিছুটা বেড়েছে ঋণ প্রবৃদ্ধি। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে প্রবৃদ্ধিতে আবারও পতন দেখা দেয়, যা অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর বর্তমানে বেসরকারি ঋণের স্থিতি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

অর্থাৎ আগের মাসের চেয়েও মার্চে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর থেকে এমনিতেই ঋণের চাপ বেড়েছে। কারণ, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের মধ্যে। যদিও আগামী জুন থেকে সুদের হার বাড়বে। এজন্য অনেকেই নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে আমদানিকারকদের ঋণপত্রের মূল্য বেড়ে গেছে। এর কারণে ঋণের পরিমাণ বাড়ার কথা থাকলেও তা কমেছে। এতে বেসরকারি খাতে প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে যায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক হারে কমে গিয়ে ২০২০ সালের মে মাসের শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে তা অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের করা প্রাক্কলনের চেয়েও কম। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর ২০২১-২০২২-এ প্রাক্কলন করেছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। যদিও প্রাক্কলিত হারের চেয়ে তা ছিল অনেক কম।