তিন মাস অন্তর জানা যাবে দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য। এজন্য প্রথমবারের মতো করা হচ্ছে ত্রৈমাসিক জিডিপি (কিউজিডিপি) হিসাব। পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ হিসেব করে থাকে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে। কিন্তু এসব সংস্থা থেকে সময় মতো তথ্য পাওয়াই হবে ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাবের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলো সাধারণত তিন মাসেই জিডিপির হিসাব করে থাকে। বিশে^র ১৩৭টি দেশ এভাবে হিসাব প্রকাশ করে। আগামীতে এর সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশের নাম। বুধবার এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডার কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে এ কর্মশালা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আহাম্মদ উল্যাহ এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রেহেনা পারভীন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের পরিচালক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
কর্মশালায় বলা হয়, জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস, প্রশাসনিক তথ্য, অন্য উৎসের তথ্য নিয়ে জিডিপির হিসাব করা হয়। যেমন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্প উৎপাদন, লেনদেন, খুচরা বিক্রি, শ্রমশক্তি, ভোক্তা মূল্য সূচক, উৎপাদন খরচ, কৃষি পণ্যের দাম, রপ্তানি ও আমদানি ব্যয়সহ ইত্যাদি বিষয়।
তাছাড়া প্রশাসনিক জায়গা থেকে কৃষি পণ্যের দাম, মাছ ধরা, যানবাহন নিবন্ধন, পর্যটকের আগমনের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়। এনবিআরের আমদানি-রপ্তানির তথ্য, ভ্যাট ডেটা, আমদানি শুল্কের তথ্য, অন্য মন্ত্রণালয়ের শ্রম জরিপ, শ্রমিকের বেতন, অবদান ইত্যাদি হিসাব করা হয়।
কিন্তু মূল তথ্য পাওয়া জায়াগাগুলোই এখন পর্যাপ্ত তথ্য হালনাগাদে অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে হালনাগাদ তথ্য পেতে ছয় মাসও অপেক্ষা করতে হয়। ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাবের ক্ষেত্রে হালনাগাদ তথ্য না পেলে জিডিপির হিসাব করাটাই চ্যালেঞ্জ হবে।
ত্রৈমাসিক জিডিপি অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের একটি স্বল্পমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশক হিসাবে বিশে^র বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিবিএস ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রাক্কলনের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, সংস্থা থেকে সেকেহুারি ডেটা ব্যবহার করছে। ফলে ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রাক্কলনের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থার যথেষ্ট সংশ্লিষ্ট রয়েছে।
ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, বিবিএস এককভাবে এ কাজ করতে পারবে না। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এই তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হতে হবে
মো. মতিয়ার রহমান বলেন, তথ্য অন্যের কাছ থেকে নিয়ে আসাটা সহজ কাজ নয়। জিডিপি হচ্ছে উৎপাদন বেইজ। এটা খরচ বেইজ নয়। উৎপাদনের তথ্য পাওয়াটা একটা কঠিন কাজ। কিন্তু এখন সেটি সহজে করা যাচ্ছে।