আরএসএফের প্রতিবেদন

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে পেছাল বাংলাদেশ

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে গত বছরের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) গতকাল বুধবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে-২০২৩ সালের এই সূচক প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, সূচকে ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩তম। এ বছর এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৩৫ দশমিক ৩১। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তুলনামূলক কম বলে আরএসএফ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, রেকর্ড সংখ্যক দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

মূলত হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার হুমকি ছাড়াই জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স প্রকাশ হয়। অভূতপূর্বভাবে এবার ৩১টি দেশের পরিস্থিতিকে ‘খুব গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর খড়গের মাত্রা বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। এতে প্রকৃত সংবাদ প্রকাশে অনেকটা চাপের মুখে মিডিয়াগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, অপপ্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে থাকা দেশগুলোতে সংবাদমাধ্যমে দমন-পীড়নের মাত্রা অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূচকে ১০০-এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩১ স্কোর করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছর ৩৬ দশমিক ৬৩ ছিল। ২০২১ সালের সূচকে ৫০ দশমিক ২৯ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬২তম ও এর আগের বছর ছিল ১৬১তম।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এবার ভারত ১৬১-তে নেমে এসেছে, পাকিস্তান ১৫০, শ্রীলঙ্কা গত বছরের ১৪৬ থেকে ১৩৫-এ, আফগানিস্তান ১৫২, নেপাল গত বছরের ৭৬ থেকে ৯৫-তে নেমে এসেছে এবং ভুটান গত বছরের ৩৩ থেকে ৯৫-তে নেমে এসেছে।

নরওয়ে টানা সপ্তমবারের মতো ৯৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। শীর্ষ দশে পরের অবস্থান হলো আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, পর্তুগাল ও তিমুর-লেস্তের। যুক্তরাষ্ট্র ৭১ দশমিক ২২ স্কোর নিয়ে ৪৫তম অবস্থানে রয়েছে।

রাশিয়া গত বছরের ১৫৫তম অবস্থান থেকে সরে ১৬৪তম, চীন ৪ ধাপ নেমে ১৭৯তম অবস্থানে রয়েছে। উত্তর কোরিয়া ২১ দশমিক ৭২ স্কোর নিয়ে শেষ অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের ওপর স্বৈরাচারী সরকারগুলোর আক্রমণাত্মক আচরণ বেড়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক বলে পরিচিত সরকারগুলোর ‘ব্যাপক বিভ্রান্তি বা প্রপাগান্ডার কারণে পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে গেছে।

আরএসএফ মহাসচিব ক্রিস্টোফ ডেলোয়ার বলেন, কর্র্তৃত্ববাদী নেতারা প্রেসকে নীরব করার প্রচেষ্টায় ক্রমশ সাহসী হয়ে উঠছে। আরএসএফের মতে, সাংবাদিকতার পরিবেশ বর্তমানে ১০টির মধ্যে সাতটিতেই ‘খারাপ’ ও মাত্র তিনটিতে সন্তোষজনক। জাতিসংঘ বলছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করে যেখানে গত পাঁচ বছরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবতাকে বিকৃত করছে। জাল বিষয়বস্তু প্রকাশ করা আগের চেয়ে সহজ এখন। এতে আরও বলা হয়, ‘সত্য ও মিথ্যা, বাস্তব ও কৃত্রিম, তথ্য ও কৃত্রিমের মধ্যে পার্থক্যটি অস্পষ্ট করা হচ্ছে, তথ্যের অধিকারকে বিপন্ন করে তুলছে।’

মানসম্পন্ন সাংবাদিকতাকে দুর্বল করার জন্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে হস্তক্ষেপ করার অভূতপূর্ব ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বিপর্যয়কর বলেও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, এআই টুল সংশ্লেষণের মাধ্যমে সংবাদ পুনর্গঠন করে, যা যাচাই ও নির্ভরযোগ্যতার নীতিকে লঙ্ঘন করে।