পাচ্ছে নতুন রূপ, মেলা ছেড়ে ফিরছে খেলায়

গ্রীষ্মে ঘাস হারিয়ে ধুলোর প্রান্তর আর বর্ষায় জল-কাদার আধারে পরিণত হওয়া চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম পাচ্ছে নতুন রূপ। আগামী বর্ষার আগেই সবুজ ঘাসে আন্তর্জাতিক মাপ ও মানের ফুটবল মাঠ হয়ে উঠবে সেটি। বন্ধ হবে সেখানে অনুষ্ঠিত মেলা বা হরহামেশা নানা অনুষ্ঠানও। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সেই কাজ। প্রকাশ করা হয়েছে তার একটি নতুন নকশাও।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা জানিয়েছে, আগামী বর্ষাকে টার্গেট করে মাটি ভরাট ও পুরো মাঠে সবুজ ঘাস লাগানো হবে। ইতিমধ্যে মাঠের চারপাশে ফেন্সিং দিয়ে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে।

আউটার স্টেডিয়ামের নতুন নকশা তৈরি করেছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট স্থপতি আশিক ইমরান। নকশায় কী কী রয়েছে তা জানতে চাইলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরো আউটার স্টেডিয়ামের বর্তমান আয়তন ১১ হাজার বর্গফুট, এরমধ্যে ৮ হাজার বর্গফুটে হবে ফুটবল খেলার মাঠ। মাঠের চারপাশে ক্রিকেট নেট প্র্যাকটিস, ভলিবলসহ নানা খেলাধুলার জন্য ব্লক থাকবে।’

ক্রিকেটের নেট প্র্যাকটিস কোন দিকে থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুইমিং পুল দেয়ালের দিকে হবে নেট প্র্যাকটিস ব্লক। আর স্টেডিয়ামের গ্যালারির দিকে ১৫০ থেকে ২০০ লোকের বসার জন্য গ্যালারি এবং সার্কিট হাউজ প্রান্ত ও নুর আহমদ চৌধুরীর প্রান্তে হবে ওয়াকওয়ে। এছাড়া বাকি জায়গায় টয়লেট সুবিধা, ড্রেসিং রুম এবং বসার জায়গা থাকবে।’

এদিকে কিছুদিন আগে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পাশের এই আউটার স্টেডিয়ামের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সব স্থাপনা উচ্ছেদ করেন এবং মাঠের মধ্যে সব ধরনের মেলা বা অনুষ্ঠানের আয়োজনও বন্ধ করে দেন। পুরো মাঠটি শুধু খেলার জন্য ব্যবহৃত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। নতুন এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আউটার স্টেডিয়ামকে ফুটবল মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। এখানে যাতে ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলার প্র্যাকটিস হয় সেসব আয়োজন রাখতে চাই। একইসঙ্গে ওয়াকওয়ে।’

মাঠটিকে নতুন করে উপযোগী করতে কত সময় লাগতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার ফখরুজ্জামান বলেন, ‘এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আমরা মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট করতে চাই। এজন্য শিগগিরই মাটি ভরাট ও ঘাস লাগানোর কাজ শুরু হবে।’

মাঠটিকে সংস্কার করতে কী পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এখনো বাজেট চূড়ান্ত হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময় আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংল পুল নির্মাণ নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। নগর পরিকল্পনাবিদদের মাঠ দখল করে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আদলে সুইমিং পুলের ডিজাইন করে মাঠের চারপাশে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তখন মাঠের ভেতরেও সবুজায়ন করার ও সংস্কারের কথা ছিল। সে সময় মাস্টারপ্ল্যানের ডিজাইন করা স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘তখন মাঠের বাইরের দিকের নকশা বাস্তবায়ন করা হলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে মাঠ সংস্কার, গ্যালারি ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি বলেন, পুরো এলাকাটি নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মাঠটিকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে আউটার স্টেডিয়াম মেলার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শুষ্ক মৌসুমে মেলা এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে প্রায় ডোবায় পরিণত হতো আউটার স্টেডিয়াম। অথচ এই মাঠেই প্র্যাকটিস করে দেশের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন আকরাম খান, নোবেল, নান্নু, তামিম ইকবাল, নাফিস ইকবাল, আফতাব আহমেদরা।