সৌদি আরব আর ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক চুক্তি প্রমাণ করে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, উপসাগরীয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের হুমকি হয়ে দেখা দেওয়া বেইজিং কি যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হয়ে উঠবে? লিখেছেন নাসরিন শওকত
ঐতিহাসিক ঘোষণা
শিয়া মতাদর্শের ইরান এবং সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী বৈরী দুই দেশ। ধর্মীয় মতভেদ ছাড়াও দেশ দুটির মধ্যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতেও প্রবল মতপার্থক্য রয়েছে। ১৯২৯ সালে সৌদি-ইরান মৈত্রী চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও উপসাগরীয় রাজ্য সৌদি আরব। এর পর থকে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গত ১০ মার্চ বিশ্বকে হতবাক করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শীর্ষ প্রতিপক্ষ নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল ইরান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন। তবে এরও একমাস আগে উভয় দেশের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এক ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে হতবাক করে দেন। সৌদি ও ইরানের কর্মকর্তাদের পাশে নিয়ে শীর্ষ চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই ভেঙেপড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দেন। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো দুই দেশের সম্পর্কের নাটকীয় অগ্রগতি এনে দেওয়া ওই বৈঠক কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আয়োজন ও মধ্যস্থতা করেছে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ চীন। ঐতিহাসিক ওই ঘোষণা আসার আগে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরান ও সৌদির শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা চার দিন রুদ্ধদ্বার (৬ থেকে ১০ মার্চ) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে গত ১০ মার্চ ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওই ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, ‘রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব’ ও ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ শর্তে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিদ্বন্দ্বি এই দুটি দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, দুই মাসের মধ্যে নিজ নিজ দেশে দূতাবাস পুনরায় চালু এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মত হয়, যার মধ্য দিয়ে এই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যকার সাত বছরের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটে। তবে তাদেরকে এক করতে এর আগে ওমান ও ইরাক বছরের পর বছর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে।
এবার পশ্চিমা রাজনীতির দিকে তাকানো যাক। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ধারাবাহিক গুচ্ছ গুচ্ছ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাশিয়া। আর বিধ্বস্ত এই রুশ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এখন মুখ্য ভূমিকা পালন করছে চীন। তবে বিশেষজ্ঞারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তিপ্রণেতা’ হিসেবে নতুন এই সাফল্য বেইজিংয়ের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেয়। কারণ বিশ্বরাজনীতির সংঘাতে নিজেকে গভীরভাবে না জড়ানোর ঐতিহ্য রয়েছে দেশটির। কিন্তু বর্তমানে চীন বড় স্বপ্ন দেখছে বলেই মনে হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদি-ইরান আলোচনা শেষ হয়। ঠিক এর পর পরই বেইজিং তার দূরদর্শী ‘বৈশি্বক নিরাপত্তা প্রচেষ্টা’ চালু করে। যার মূল লক্ষ্য বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও পরামর্শ চালানোর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মতপার্থক্য ও বিরোধের সমাধান করা। এরপর গত সপ্তাহে চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং বলেন, ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বেইজিং। এদিকে জার্মানির আর্নল্ড- বার্গস্ট্রেসার ইনস্টিটিউট ফ্রেইবার্গে সহযোগী ফেলো জুলিয়া গুরোল হলার বলেছেন, সৌদি-ইরান চুক্তিটি চীনের ‘ভবিষ্যৎ উদ্যোগের লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি এমন এক ঘোষণা, যার মধ্য দিয়ে বিরোধের মধ্যস্থতায় চীন অতীতের তুলনায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই সব ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শক্তিকেন্দ্র বলে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, সৌদির সঙ্গে কখনো উত্তপ্ত, কখনো শীতল সম্পর্ক এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দখল করে রাখা ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীর বিশৃঙ্খল প্রত্যাহার বৈশি^ক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আঘাত করেছে। আবার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও দেশটিকে বিভ্রান্ত করে রেখেছে। কারণ কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে ‘পুলিশের’ ভূমিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চীন মধ্যপ্রাচ্যকে সেই সব কিছু দিতে পারবে, যা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করে আসার পরও ব্যর্থ হয়েছে? তবে এর উত্তর খুবই ছোট। বিশ্বরাজনীতিতে দ্রুত ক্রমবর্ধমান প্রভাব তৈরি করা সম্ভব হলেও চীনের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান দখল করার সক্ষমতা নেই। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের কয়েক ডজন ঘাঁটি ও মিত্র রয়েছে, যারা তার প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং হয়তো কোনো অবস্থাতেই এমন গুরুদায়িত্ব নিতেও চাইবে না। এক্ষেত্রে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলে চীন বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিজের ফায়দা লুটতে পারে।
চীনের সুবিধা
সৌদি-ইরান চুক্তি সইয়ের আগেই দূরদর্শী চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এরইমধ্যে রিয়াদ ও তেহরানের শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার ও তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাও বেইজিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ককেও সুদৃঢ় করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলটির ভূ-রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চীন ২০২১ সালে ইরানের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি সহযোগিতা চুক্তি এবং পরের বছর সৌদির সঙ্গে ব্যাপক পরিসরের কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি সই করেছে। তবে ২০১৩ সালে চালু করা চীনের সুবিশাল বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) কোনো ছোট অংশও সৌদি ও ইরানের মধ্যে পড়েনি। চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো একাধিক বন্দর, রেলওয়ে, মহাসড়ক এবং অন্য অবকাঠামোর এই নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে সংযুক্ত করা।
২০০৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে চীন ২৭৩ বিলিয়নের বেশি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ইরাক থেকে তেল এবং কাতার থেকে গ্যাস কিনলেও আলজেরিয়া, মরক্কো, তুরস্ক, মিসর এবং সৌদিতে অস্ত্র রপ্তানি করে দেশটি । সেই সঙ্গে মিসরকে কায়রোর বাইরে তার নতুন রাজধানী নির্মাণে এবং সৌদির মক্কা নগরীতে মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়তা করছে। ২০২২-এর ডিসেম্বরে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং তিনদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবে যান। তিনি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো আরব লিগ ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করেন। তখন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই সফরকে চীন ও তার দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ‘নতুন ঐতিহাসিক যুগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
অন্যরকম এক শক্তি
সাংহাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফান হংদা বলেছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, চীন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।
দেখা যায়, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো সংঘাতের ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বেইজিং তার ভেটো অধিকার ব্যবহার করেছে। তবে দেশটি অন্য বড় দ্বন্দ্বগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের তুলনায় নিজেকে কম জড়িয়েছে। এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো অঞ্চলের শাসনতন্ত্রেও পরিবর্তন বা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের পতন ঘটাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঐতিহাসিক কোনো রেকর্ডও নেই চীনের। মধ্যপ্রাচ্যে কমপক্ষে ৩৬টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন নিজেকে একটি সৌম্য শক্তি হিসেবে প্রচার করতে পছন্দ করে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা গেলেও বাস্তবে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাটকীয়ভাবে চীন তার সামরিক সক্ষমতার বৃদ্ধি ও প্রসার ঘটিয়েছে। প্রায়ই দেশটি তার প্রতিবেশী এলাকায় এই সক্ষমতার প্রদর্শনী করে থাকে। ২০১৭ সালে চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি হরমুজ প্রণালীর কাছে জিবুতিতে প্রথমবারের মতো তার বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করে। এর ঠিক চার বছর পর, সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) একটি নৌঘাঁটি তৈরি করছে। এটি এমন একটি প্রকল্প যা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার পর ইউএই কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের চায়না-মিডল ইস্ট প্রকল্পের পরিচালক জাকিয়েহ ইয়াজদানশেনাস বলেছেন, ‘চীনের ট্রাক রেকর্ড বলছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে, সে তুলনায় বেইজিংয়ের জড়িয়ে পড়ার ঝোঁক এখনো পর্যন্ত কম। পরিচালক ইয়াজদানশেনাস সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি যেরকম, ঠিক একইরকমের সক্ষমতা বা ইচ্ছার কোনোটাই বেইজিংয়ের আছে বলে মনে হচ্ছে না। তবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে তার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’
প্রভাবিত করার সীমাবদ্ধতা
তবে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর কৌশল, প্রযুক্তি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ের সহযোগী ফেলো মার্ক ফিটজপ্যাট্রিক বলেছেন, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যে ‘পুলিশ’ বা নিরাপত্তা প্রদানকারীর ভূমিকা নিতে চীনের অনিচ্ছা দীর্ঘমেয়াদে তার মধ্যস্থতার ‘টুলকিট’কে (কৌশলগত সরঞ্জাম) সীমিত করে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে এটিও দেখতে হবে যে, চীন মধ্যস্থতা করার সময় শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েই চুক্তিগুলো সম্পাদন করতে পারছে কি না?’’
এ প্রসঙ্গে ফিটজপ্যাট্রিক আলজাজিরাকে বলেছেন, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি কতদিন টিকবে বা চীন তা কার্যকর করতে সক্ষম হবে কি না এ নিয়ে আগে থেকেই অনেকের সন্দেহ ছিল। সামনের দিনগুলো এমন কিছু ঘটতেও পারে যে, দেশ দুটির সম্পর্ক আবারও শিথিল হয়ে পড়ল, তখন চীনের পক্ষে তার অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা সত্যিকার অর্থেই সহজ নাও হতে পারে। তবে এমন সম্ভবনাও রয়েছে যে, চুক্তির সব দিক যেমন আশা করা হয়েছিল, তেমন নাও হতে পারে। কারণ এই দুই বৈরী দেশের রেষারেষির পেছনের মৌলিক কারণগুলো সহজে দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
এদিকে আর্নল্ড বার্গস্ট্রেসার-ইনস্টিটিউট ফ্রেইবার্গের গুরোল হলার বলেছেন, ‘‘আপাতত চীনকে শান্তির জন্য একটি ‘অতি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ’ পথেই হাঁটতে হবে। এক্ষেত্রে তাকেও যুক্তরাষ্ট্রের মতোই দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে হবে।” গুরোল আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘তবে এটি মোটেও পরিষ্কার নয় যে ইরান ও সৌদিকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ এই পথ চীন কীভাবে পাড়ি দেবে। সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তির পর দেওয়া যৌথ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি যে, এই চুক্তির লঙ্ঘন হলে এর স্বাক্ষরকারী প্রধান দুই অংশীদার বা চীন কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইরান এই চুক্তির কোনো অংশ ভঙ্গ করলে কী হবে বা চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সৌদি আরব অমান্য করলেই বা কী হবে এই দুই প্রসঙ্গে চীনই বা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তাও স্পষ্ট নয়। তবে এখানে যা স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কঠোর পরিশ্রম শুরু হলো মাত্র।”