সংঘাত থেকে পালিয়ে ক্ষুধার মুখে

দফায় দফায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েও সংঘাত থামেনি সুদানের বিবদমান দুপক্ষের। রাজধানী খার্তুমসহ আশপাশের অনেক শহরেই ঘটছে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। দফায় দফায় ভেসে আসছে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। তিন সপ্তাহের যুদ্ধে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটি থেকে পালিয়ে যেতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও কয়েক লাখ। তবে বাস্তুভিটা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষ আপাতত গোলাগুলির হাত থেকে বাঁচলেও পড়েছে ক্ষুধার মুখে।  এ অবস্থায় জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বিবদমান দুপক্ষের জেনারেলের সঙ্গে ফোনালাপও করেছিলেন। তবে তাদের কারও মধ্যেই এখনো ‘যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা নেই’ বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এ কারণে সুদানের মানবিক পরিস্থিতি এখন বিপজ্জনক চূড়ায় রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক উপমহাসচিব এবং জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী মার্টিন গ্রিফিথস সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার জন্য পোর্ট সুদানে গিয়েছিলেন। তিনি ফোনে নিয়মিত সেনাবাহিনীর প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামক আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান মোহাম্মাদ হামদান দাগালোর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কেউই যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইচ্ছুক নয় বলে জানিয়েছেন গ্রিফিথস। পোর্ট সুদান সফরের কয়েক ঘণ্টা পর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সবচেয়ে কঠোর বাস্তবতা হচ্ছে, লড়াইরত দুপক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

বিবিসি বলছে, তারপরও তিনি উভয়পক্ষের কাছে দেশটিতে নিরাপদে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নিশ্চয়তাও চেয়েছেন।

গত ১৫ এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে হাজারো মানুষ। এ লড়াইয়ে রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিষেবা। কিন্তু যুদ্ধে এখনো কোনোপক্ষই নতিস্বীকার করার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। আবার কোনোপক্ষেরই দ্রুত জয়লাভের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

ফলে বাধ্য হয়েই বাড়িঘর ছাড়ছে মানুষ। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে দরিদ্র প্রতিবেশী দেশগুলো শরণার্থী সংকট সামলাতে হিমশিম অবস্থায় থাকায় সুদানের এ সংঘাত সীমান্তসংকট তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। লড়াইয়ের কারণে সাহায্য সরবরাহের পথগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সুদান ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সংকট ডেকে আনতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এ দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। নড়বড়ে অর্থনীতি সুদানেরও। আগে থেকেই দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এরই মধ্যে যুদ্ধের কারণে সেখানে বিভিন্ন সহায়তা পণ্য সরবরাহে বাধা পড়ছে।

সুদানের এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত প্রতিবেশী মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। গত মঙ্গলবার জাপানের একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সতর্ক করে বলেন, এ যুদ্ধের প্রভাব পুরো অঞ্চলে পড়তে পারে। যুদ্ধ থামাতে সুদানের দুই বাহিনীকে আলোচনায় বাসানোর বিষয়েও আগ্রহও দেখিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মিখায়েল ডানফোর্ডও গত মঙ্গলবার বলেছেন, ঝুঁকিটা হচ্ছে, সংকটটা শুধু সুদানের হবে না। এটি হবে আঞ্চলিক সংকট।