জোট গঠনের পর বছর না গড়াতেই ভেঙে গেল সরকারবিরোধী সাতটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। গতকাল শনিবার এক বৈঠকে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণ অধিকার পরিষদ। তবে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে থাকছে তারা।
জোট ছাড়ার বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদ কিছু জানিয়েছে কি না জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অফিসিয়ালি আমাদের কিছু জানায়নি। তবে তাদের দলের সিদ্ধান্তের একটি কপি আমাদেরকে পাঠিয়েছে। কাল রবিবার (আজ) বিকেলে আমাদের বৈঠক আছে। বৈঠকে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’
গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে থাকব না। তবে চলমান যুগপৎ আন্দোলনে স্বতন্ত্রভাবে কর্মসূচি পালন করব।’
চলমান যুগপৎ আন্দোলনকে বেগবান করতেই এমন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, আজ গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে একটি হলো নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করা। সে লক্ষ্যে শুধু গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে জোটবদ্ধ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে গণ অধিকার পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে চলমান যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দলের সঙ্গে রাজপথে সমন্বিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি আরও বলেন, নানা বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের বিরূপ আচরণে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা অনেকটাই হতাশ।
সাতটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গত বছর গঠিত হয়েছিল ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামের নতুন রাজনৈতিক জোট। দলগুলো হলো : জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।