গাজীপুর সিটি নির্বাচন

জাহাঙ্গীরের মাকে ভোটে স্বাগত আজমত উল্লার

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের মাঠে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমের মাকেও স্বাগত জানাই। যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের সবাইকে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। আমি কাউকে ছোট করে দেখি না, বড় করেও দেখি না।’ গতকাল শনিবার সকালে টঙ্গীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আজমত উল্লা খান।

অন্যদিকে এই নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন বলেছেন, তাদের মা-ছেলেকে সাধারণ মানুষ কতটা ভালোবাসে তার প্রমাণ দেখার জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল দুপুরে গাজীপুর নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটি মহল মিথ্যা ও ভুয়া কথার প্রচারণায় ফেলে আমার ছেলেকে (জাহাঙ্গীর) ১৮ মাস ধরে স্তব্ধ করে রেখেছে। সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমাদের মা-ছেলেকে জনগণ কেমন ভালোবাসে তা দেখার জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছি। যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে রাস্তাসহ যে কাজগুলো পড়ে আছে সেগুলো শেষ করব।’

জনগণ তার পাশে আছে দাবি করে জায়েদা খাতুন বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু ভোট হয়, কারচুপি ও দুর্নীতি না হয়, ৫৭টি ওয়ার্ডের মানুষ আমার সঙ্গে আছে, থাকবে ইনশাল্লাহ। প্রচারণা শুরু হলে সব ওয়ার্ডেই যাব। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। সব পেশার মানুষের কাছে ভোট চাইব। আমার চাওয়া-পাওয়া তাদের কাছে বলব। আশা করি সবার সমর্থন পাব।’ এসব কথা বলার সময় তার পাশে ছিলেন ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

জায়েদা খাতুন আরও বলেন, ‘আমার জাহাঙ্গীর কোনো দুর্নীতি করেনি। সেই শিক্ষা তাকে দেওয়া হয়নি। ছোটবেলায় তাকে আমি বলতাম, যেদিক দিয়ে হেঁটে যাবে সেদিকের একটি গাছের পাতাও ছিঁড়বে না। অন্যের গাছের ফলের দিকেও তাকাবে না। তাই আমার ছেলের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।’

অবশ্য জাহাঙ্গীর আলম মেয়র থাকাকালে কোনো দুর্নীতি করেননি বলে তার মা জায়েদা খাতুন দাবি করলেও আজমত উল্লা খান বলেছেন ভিন্ন কথা। মেয়র জাহাঙ্গীরের মেয়াদকালে গাজীপুর নগরীতে ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকার গাজীপুর সিটিতে একটি প্রকল্পে ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। সেখানে ক্ষতিপূরণের জন্য এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা দিয়েছে। ক্ষতিপূরণের সেই টাকাটা জনগণকে দেওয়া হয়নি। এখানে সিস্টেম উন্নয়ন করতে হবে। এখানে ইচ্ছে করলেই কাউকে টাকা দিতে পারবে না। সাবেক মেয়র সেখান থেকে ৭২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। জনগণের জন্যই তো রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়। সেই জনগণকে উচ্ছেদ করে রাস্তায় বসিয়ে ডেভেলপমেন্টটা কার জন্য? জনগণকে উচ্ছেদ করে সেই ডেভেলপমেন্ট কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। ক্ষতিপূরণে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে, সেটা কেন জনগণকে প্রদান করা হলো না সেটা উনি (জাহাঙ্গীর) বলতে পারবেন।’

এবারের নির্বাচনে আলোচিত জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের ভোটের মাঠে থাকাকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি যে কোনো প্রার্থীকে স্বাগত জানাই। মিডিয়া ছাড়া জনগণের সঙ্গে তার (জাহাঙ্গীর) কোনো সম্পর্ক নেই। সে ২০১৮ সালে নির্বাচন করেছিল। দল তার পেছনে ঐক্যবদ্ধ ছিল। আমিও তখন প্রার্থী ছিলাম। রাতে যখন প্রার্থী ঘোষণা করা হলো তিনি আমার বাড়িতে আসেননি। আমাকে সৌজন্যের খাতিরে একটি টেলিফোনও করেননি। তখন আমরা সবাইকে সমন্বয় করে নির্বাচন করেছিলাম।’

জাহাঙ্গীর আলমকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে নমিনেশন না দিলেই দল খারাপ, আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিলেও আইন খারাপ। এগুলো কোনো সুখকর কথা না। নির্বাচন করলে আমি তাকে স্বাগত জানাই। নির্বাচনে জনগণ নির্ধারণ করবে কার দ্বারা তাদের কার্যক্রম সফল হবে। দল তার (জাহাঙ্গীর) বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে না নেবে সেটা দলের নেতারা জানেন। গঠনতন্ত্র অনুসারে দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। হাইকোর্ট তাকে নির্বাচন করার অনুমতি দিলে আমি স্বাগত জানাই।’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে আজমত উল্লা খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি-২০১৬ এর দুটি ধারা উল্লেখ করে আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমার দ্বারা কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। সর্বশেষ যে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে আমি পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমি কি আমার নির্বাচনী এলাকার বাইরে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারব কি না? উনারা আমাকে বলেছেন, নির্বাচনী এলাকার বাইরে এটা করা যাবে। আমি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরব। নির্বাচন কমিশনে হয়তো একটি রং ইনফরমেশন গিয়েছে। যার কারণ নির্বাচন কমিশন আচর‌ণবিধি ভঙ্গের চিঠি দিয়েছে।’