বিক্রিতে উল্লম্ফনের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমে আসায় রেকর্ড মুনাফা করেছে সিমেন্ট উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা, যা কোনো প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুনাফা। গতকাল প্রকাশিত লাফার্জহোলসিমের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথম প্রান্তিকে পণ্য বিক্রি থেকে লাফার্জহোলসিমের আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের বদৌলতে নিট বিক্রি বেড়েছে। এ সময় সিমেন্ট, ক্লিংকার ও অ্যাগ্রিগেটস বিক্রি থেকে লাফার্জহোলসিমের আয় হয়েছে ৮৫৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ সময় সিমেন্ট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পাথরের ব্যবসা থেকেও বিপুল আয় এসেছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে অ্যাগ্রিগেটস বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ১০৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
চলতি বছরে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যয় হয়েছিল মোট বিক্রির ৭১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা চলতি প্রথম প্রান্তিকে ৬৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। নিট মুনাফা বাড়াতে এটি অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মোট মুনাফা হয়েছে ৩০৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে লাফার্জহোলসিম একমাত্র কোম্পানি, যাদের সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের নিজস্ব খনি রয়েছে। কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে ভারতের মেঘালয় থেকে চুনাপাথর সুনামগঞ্জে অবস্থিত লাফার্জের কারখানায় নিয়ে আসা হয়, যা থেকে সিমেন্ট উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্পে বিশেষায়িত সিমেন্ট সরবরাহ করছে কোম্পানিটি।
প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিপণন ব্যয়ের পর কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪৩ কোটি টাকায়, যেখানে আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১২৭ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০২ শতাংশ বেশি। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮১ পয়সা।
মুনাফা প্রসঙ্গে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইকবাল চৌধুরী বলেন, প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবনী পণ্য দ্বারা পরিচালিত কৌশলগত উপস্থিতি, গুণগতমানসম্পন্ন সমাধান, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং নতুন নতুন চ্যানেলের সমাহারে আমাদের সামর্থ্যরে প্রতিফলন। এর পাশাপাশি আমরা আমাদের জিওসাইকেল প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকদের টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দিচ্ছি। বছরের শুরুটা হয়েছে রেকর্ড দিয়ে। আমি কোম্পানির সব কর্মী এবং সব চ্যানেল পার্টনারদের ধন্যবাদ জানাই এমন একটা শুরু এনে দেওয়ার জন্য। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এ প্রবৃদ্ধির ধারাকে টেকসই করতে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের পাশাপাশি আমরা চ্যানেল বৃদ্ধি করা, অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা, নতুন পণ্য এবং সমাধানগুলোর ওপর জোর দেওয়া অব্যাহত রাখব।
গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে লাফার্জহোলসিম জানায়, চলতি প্রথম প্রান্তিকেও জিওসাইকেলের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান অব্যাহত ছিল এবং এই তিন মাসে আট হাজার টনেরও বেশি নানা ধরনের বর্জ্য নিরাপদে ধ্বংস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানির ‘গ্রিন গ্রোথ’ এজেন্ডা গতি পেয়েছে। পুরো প্রান্তিক জুড়েই কোম্পানির ব্যয় সংকোচন কার্যক্রম অব্যাহত ছিল যা সামগ্রিক ফলাফলে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।